গাজায় গণহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে রায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দিয়েছে তা স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বিপরীত ভাবে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, ইসরায়েলকে নৈতিকতা শেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই আইসিজের। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আইসিজের রায়ের পর হামাস বলেছে, ইসরায়েলকে একঘরে করতে এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অপরাধ তুলে ধরতে আইসিজের রায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকিও এই রায় স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, আইসিজের বিচারকেরা গাজার প্রকৃত চিত্র ও আইনের সঠিক মূল্যায়ন করেছেন।
আবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলা ‘আপত্তিকর’ বিষয়। দেশটি আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার পাশাপাশি তার জনগণকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার প্রচেষ্টা ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বৈষম্য। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা শুধু মিথ্যাই নয়, জঘন্য। ভদ্রলোকদের উচিত এটি প্রত্যাখ্যান করা।
এদিন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত তার রায়ে বলেছে, ইসরায়েলকে নিশ্চিত করতে হবে তার বাহিনী গণহত্যা করবে না। তাদের কথিত গণহত্যার প্রমাণ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে ইসরায়েল গণহত্যা বন্ধে তার ক্ষমতার মধ্যে সব ব্যবস্থা নিতে কি করেছে তার প্রতিবেদন এক মাসের মধ্যে আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও গাজায় প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিষেবা এবং মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করতেও অবিলম্বে কার্যকর নেয়ার কথা বলেছে আদালত।
বিচারকদের মধ্যে একজন বলেছেন, এই রায় ইসরায়েলের জন্য আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। তবে বিচারক পরিষদ ইসরায়েলকে কেবল আন্তর্জাতিক আইন মেনে কার্যক্রম চালানোর নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক আদালতের কেবল পরামর্শমূলক মত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।
রায় আইনি প্রক্রিয়ায় দেওয়া হলেও সেটি প্রয়োগে আদালত জোর করতে পারে না। যদিও এই রায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মিত্রদের ওপরও চাপ বাড়বে।
গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। তারা বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সত্যকে বিকৃত করেছে। ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তারা হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়ছে।
আইসিজের রায়ে হতাশ ‘যুদ্ধবিরতি’ চাওয়া ফিলিস্তিনিরা
গাজায় গণহত্যা বন্ধে ইসরায়েলকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ