নির্বাচনোত্তর সহিংসতা

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, আহত ৮

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪৮ এএম

বড়াইগ্রামে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সাতটি বাড়ি ও দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় নারীসহ আটজন আহত হয়েছেন। নৌকার কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দিয়াড়গাড়ফা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বড়াইগ্রামে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় আহতদের মধ্যে এমদাদুল হক ইন্তাজ (৭০), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬০) ও পুত্রবধূ মিনারা বেগম (৩৮), গুলজার হোসেন, আরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৩৫) ও মাহবুব আলমকে (৩৬) বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গতকাল সকালে চান্দাই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুজন আহম্মেদের নেতৃত্বে নৌকা সমর্থক শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দিয়াড়গাড়ফা গ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা এমদাদুল হক ইন্তাজ, তার ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্টু, গুলজার হোসেন, শাহীন আলম, দেলোয়ার হোসেন ও গোলাম হোসেন এবং সানোয়ার হোসেনের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ছাড়া মাহবুব আলমের মেকানিকের দোকান ও গুলজার হোসেনের সিমেন্টের দোকানও ভাঙচুর করে তারা। এ সময় হামলাকারীরা এসব বাড়ি থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণের গয়না লুটে নিয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিনটি আধাপাকা বাড়ির নয়টি কক্ষের দরজা-জানালা এবং চারটি টিনশেড বাড়ির ১০টি কক্ষের বেড়ার টিন ও দরজা-জানালা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিনষ্ট করেছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার ও পানি ওঠানোর পাম্পও ভেঙে ফেলেছে। ঘরের ভেতরে ভাঙা টিভি, ফ্রিজ, আলমিরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গোলাম হোসন জানান, ভাঙচুরের সময় তার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণের গয়না, জুলফিকার আলী ভুট্টুর গরু কেনার জন্য জমানো ২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ দুটির সোনার চেইন, গুলজার হোসেনের বাড়ি থেকে ৩ লাখ, শাহীন আলমের ১ লাখ এবং এবং ছাগল ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেনের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সানোয়ার হোসেন বলেন, আমি খাসজমিতে থাকি। আমি রাজনীতি করি না, এমনকি এখানকার ভোটারও না। তারপরও তারা আমার বাড়ির টিনশেড দুটি কক্ষের বেড়ার টিনসহ চালও কুপিয়ে শেষ করে দিয়েছে। হাত-পায়ে ধরেও ঘর দুটি বাঁচাতে পারিনি। আমি এ বাড়ি কীভাবে সারাব আর এত শীতে এ ঘরে কীভাবে থাকব।

ইউপি সদস্য সুজন আহম্মেদ জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরাই প্রথমে হামলার প্রস্তুতি নিয়ে জড়ো হয়। খবর পেয়ে নৌকার লোকজন পাল্টা হামলা করেছে। তবে আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরল মুরমু জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আর যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সেখানে এখনো পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত