অং সান সু চির বাড়ি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে জান্তার আদালত

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৭ পিএম

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির বাড়ি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গত বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িটি নিলামে তোলার রায় দিয়েছেন মিয়ানমারের সর্বোচ্চ আদালত। থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের ইরাবতি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

রয়টার্স বলছে, আর এক সপ্তাহ পরই অং সান সু চির কারাবাসের ৩ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এ সময়ে জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রিত আদালতের এ রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চলতি বছরের মার্চে সু চির পৈত্রিক এ বাড়িটির নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে। বাড়িটির আনুমানিক দাম ধরা হয়েছে ৯ কোটি ডলার। বাড়ি নিয়ে রায় ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত সু চির আইনজীবীরা বন্দি নেত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারেননি।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু  চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। ওই দিনই সু চিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুচির ৩৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নেপিদো কারাগারের নির্জন কক্ষে রয়েছেন অং সান সু চি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চির পৈত্রিক বাড়ির মালিকানা নিয়ে সু চি ও তার বড় ভাইয়ের মধ্যে কয়েক দশকের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এর আগে ২০০০ সালে সামরিক সরকারের সময়ে সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তার ভাই উ অং সান উ বাড়িটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছিলেন। পরে আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে গেলে তিনি বাড়িটির যৌথ মালিকানা দাবি করে আরেকটি মামলা করেন। সেই মামলায় ২০১৬ সালে ইয়াঙ্গুনের একটি আদালত বাড়িটির অর্ধেক জমির মালিক অং সান সু চি ও বাকি অর্ধেক জমির মালিকানা তার ভাইয়ের বলে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে উ অং সান উ উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিলে তিনি বাড়িটি নিলামে তুলতে এবং মূল্যের একটি অংশের দাবি করেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার জান্তার সুপ্রিম কোর্ট উ অং সান উর পক্ষে রায় দিলেন।  

অং সান সু চির এ পৈত্রিক বাড়িটি ইয়াঙ্গুনের ইনিয়া লেকের তীরে অবস্থিত। বাড়িটি মিয়ানমারের গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং জাতীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আগের জান্তা শাসনামলে এই বাড়িটিতেই দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন অং সান সু চি। তখন বাড়িটির সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতেন সু চির বক্তব্য শোনার জন্য। ঔপনিবেশিক আমলের এ বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়েই গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য দিতেন নোবেলজয়ী এ নেত্রী। ২০১১ ও ২০১২ সালে এই বাড়িতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে ১ দশমিক ৯ একরের এই জমিটি রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুদান পেয়েছিলেন অং সান সু চির মা খিন চি। সু চির বাবা ছিলেন মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল অং সান, যাকে পরে হত্যা করা হয়। এই  হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রের তরফ থেকে জমিটি পান সু চির মা। 

২০২২ সালে বাড়িটিকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে জান্তা বিরোধী মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ছায়া সরকার, যা ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট হিসেবে পরিচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত