যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন নিউ ইয়র্ক শহর আদালতের বিচারকরা। লেখক ই জ্যাঁ ক্যারলকে মানহানির দায়ে আদালত গত শুক্রবার ট্রাম্পকে এই জরিমানা করেন। ট্রাম্পকে এমন সময় আদালত জরিমানা করলেন যখন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মার্কিন লেখক ই জ্যাঁ ক্যারলকে দেওয়া অর্থের মধ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে হবে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং বাকি ১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার দিতে হবে সুনামহানির দায়ে।
রায়ের পর ক্যারলের আইনজীবী রবি ক্যাপলান বলেন, ‘আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো যে, আইন কোনো ধনী ও খ্যাতনামা ব্যক্তি, এমনকি সে যদি সাবেক প্রেসিডেন্টও হয়; আমাদের দেশের তার ওপর প্রযোজ্য।’
রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প মামলার রায়কে ‘পুরোপুরি হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছেন এবং তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন। আদালতের ভাষ্য, ট্রাম্পের মন্তব্য ক্যারলেন সুনাম ও মানসিক স্বাস্থ্যকে আঘাত করেছে।
নয় সদস্যের বিচারক প্যানেল (সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারী) এই রায় দেন এবং এই রায়ের পর ক্যারল স্বস্তির কথা জানান। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই রায় নির্যাতিত ও নিপীড়িত অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে ইচ্ছুক প্রতিটি নারীর বিজয় এবং যেসব মানুষ নারীদের দমিয়ে রাখতে চায় তাদের জন্য এটি বড় পরাজয়।’
নিজের সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, আদালতের ‘রায় নিয়ে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। আমাকে এবং রিপাবলিকানদের লক্ষ্য করে জো বাইডেনের নির্দেশিত এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আপিল করব।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আমেরিকা মনে হচ্ছে না।
জ্যাঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯০ সালে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে তাকে ধর্ষণ করেছিলেন ট্রাম্প। এর প্রমাণও পেয়েছিলেন আদালত। কিন্তু ক্যারল আলাদা আরেকটি অভিযোগ দায়ের করে বলেন, নিপীড়নের অভিযোগে মামলা পর ট্রাম্প তাকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করেন। আদালত গত শুক্রবার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রায় ঘোষণা করেন। ক্যারলকে নিয়ে ২০১৯ সালে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেছিলেন ট্রাম্প।
