মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত এবং আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। গতকাল রবিবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে হামলায় হতাহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়া সীমান্তের কাছে জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
গত বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর এই প্রথম ওই অঞ্চলে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা নিহতের ঘটনা ঘটল। গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হয়নি।
ইরান সমর্থিত কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো এই হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গতকাল সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এবং অন্য কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে এ হামলার বিষয়ে অবগত করেন।
পরে এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, ‘যদিও আমরা এখনো এই হামলার বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে আমরা জানি, সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় থাকা ইরান সমর্থিত কট্টর জঙ্গি দলগুলো এ হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা একসঙ্গে আমাদের বেছে নেওয়া পদ্ধতিতে এ হামলার জন্য দায়ীদের ধরব এবং সাজার আওতায় আনব।’
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সোমালিয়া উপকূলে একটি নৌযানে অভিযান চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা নিখোঁজ হয়। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। যে নৌযানে অভিযান চালানো হয়েছিল সেটিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জন্য অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়।
জাতিসংঘ সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ চায় ইসরায়েল : গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। সেই সঙ্গে গাজায় জাতিসংঘের এই সংস্থার মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশটি। অবশ্য ইসরায়েল অভিযোগ তোলার পরপরই জাতিসংঘের সংস্থাটিকে নতুন করে তহবিল দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও ফিনল্যান্ড। এর মধ্যে অবশ্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ।
ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, ইসরায়েলের অভিযোগের পর কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে তারা। আর কোনো কর্মকর্তা ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি। তবে কতজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা জানাননি লাজারিনি।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কেৎজ ফিলিপ লাজারিনির পদত্যাগ চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কেৎজ লিখেছেন, লাজারিনি অনুগ্রহ করে পদত্যাগ করুন। ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান এর আগে এক্সে এক পোস্টে বলেন, তহবিল কমানোর অর্থ হলো, গাজায় জাতিসংঘের কার্যক্রম ভেঙে পড়তে চলেছে। এর পাল্টা জবাবে কেৎজ এই পোস্ট দেন। কেৎজ এর আগে এক বিবৃতিতে বলেন, গাজা পুনর্গঠনে প্রকৃত শান্তি ও উন্নয়নের জন্য যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। এদিকে ইসরায়েলের এমন অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে হামাস। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে হুমকি ও ভয় না দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে হামাস।
ইসরায়েল ও ইউএনআরডব্লিউএর মধ্যে কয়েক বছর ধরে সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। তবে সম্প্রতি এ সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ ট্যাংকে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সেখানে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের গৃহহীন মানুষের আশ্রয়স্থল ছিল। গত বুধবারের ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ওই আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ থাকত। লাজারিনি বুধবারের ওই হামলাকে যুদ্ধের নীতি লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
ইসরায়েলের তথ্য অনুসারে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ১৪০ জন নিহত হয়েছে। হামাসের কাছে ইসরায়েলের ২৫০ জন জিম্মি রয়েছে। আর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ২৬ হাজার ২৫৭ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু।
