নজরুল ইসলাম বাবুর সাক্ষাৎকার

ঘোলা পানিতে কেউ মাছ শিকার করতে পারবে না

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩১ এএম

টানা চারবার নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবার হুইপের দায়িত্ব পেলেন। এই সংসদ সদস্য দেশের রাজনীতি, সরকার, সংসদ ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মুল ওয়ারা সুইটি

দেশ রূপান্তর : এবারের সংসদ অধিবেশন কেমন চান বা কেমন হবে?

নজরুল ইসলাম বাবু : এবারই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে ৬২ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা এবারের সংসদকে প্রাণবন্ত রাখবেন। তারা অনেক বড় ফাইট দিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। কাজেই সংসদে তারা সরব থাকবেন। আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং সমসাময়িক ইস্যুতে তারা আলোচনা-সমালোচনা করবেন এমনটাই আমি বিশ্বাস করি।

দেশ রূপান্তর : স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৫৮ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। তারা কেউ কেউ মনোনয়নও চেয়েছিলেন। কিন্তু নৌকা প্রতীক পাননি। এখন তারা কি সরকারের বাইরে কোনো ভূমিকা রাখবেন বলে আপনি মনে করেন?

নজরুল ইসলাম বাবু : এলাকার জনগণ তাদের নিরাশ করেননি। তারা যে সত্যিকার অর্থে জনপ্রিয় এটা তারা প্রমাণ করেছেন। তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর তারা সংসদে রাখবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নেত্রী (শেখ হাসিনা) তাদের বলেছেন সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় তারা যেন ভূমিকা রাখেন। তারা সংসদে আসতে পেরে খুবই উৎফুল্ল। গণভবনে তাদের জন্য আধঘণ্টার বরাদ্দ থাকলেও আড়াই ঘণ্টা নেত্রী তাদের সময় দিয়েছেন। তাদের কথা শুনেছেন।

দেশ রূপান্তর : এবারের সংসদ ও সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো কী?

নজরুল ইসলাম বাবু : এই মুহূর্তে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা আশা করি, আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। সরকার চেষ্টা করবে আগামী তিন মাসের মধ্যে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসে। শেখ হাসিনার কারিশম্যাটিক নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিগত সময়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। কেউ যেন দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে এবং আর কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা না করতে পারে, সেটাও সরকার দেখবে। আমি মনে করি, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ আর কোনো রাজনৈতিক দলকে দেবে না সরকার।

দেশ রূপান্তর : এমপি হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকা নায়ায়ণগঞ্জ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

নজরুল ইসলাম বাবু : গত ১৫ বছরে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড দৃশ্যমান। সবসময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এবার তৃতীয় মেঘনা সেতু করার কার্যক্রম হাতে নেব। তাহলে ছয়টি জেলার মানুষ আড়াইহাজারের ওপর দিয়ে চলাচল করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন মহাযজ্ঞে নারায়ণগঞ্জবাসীর সফলতার জন্য আমি কাজ করব। শিক্ষার হার বাড়াতে এবং এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এর মধ্যে যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছি, সেগুলোকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এবার এক নতুন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা হবে। মাদক থেকে দূরে রেখে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার দিকে অনুরাগী করে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আমরা কাজ করছি।

দেশ রূপান্তর : জনগণের জন্য আপনার অঙ্গীকার কী থাকবে?

নজরুল ইসলাম বাবু : তরুণদের নিয়ে একটি আদর্শিক, সুন্দর, সাবলীল একটি এলাকা হবে আড়াইহাজার। যেটি ঢাকার অতি সন্নিকটে। যেখানে একজন মানুষও অসুবিধায় থাকবে না। শিক্ষা শেষে কাজের নিশ্চয়তা থাকবে। প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি পালন করব। এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত