গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহ এলাকাকে ইসরায়েল তার সামরিক অভিযানের কেন্দ্রে পরিণত করতে চলেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ খবর দেওয়া হয়েছে। আবার ইসরায়েল গাজায় বেলজিয়াম সরকারের একটি উন্নয়ন সংস্থায় হামলা করায় ব্রাসেলস সেখানে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতকে তলব করেছে। এদিকে গাজায় চলতে থাকা নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আট শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা একটি যৌথ বিবৃতিতে নিজ নিজ দেশের সরকারের ইসরায়েল নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েল তার সামরিক অভিযানের কেন্দ্র গাজা উপত্যকার দক্ষিণের শহর রাফাহতে স্থানান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে। এতদিন তাদের সামরিক অভিযানের কেন্দ্র ছিল মধ্য গাজার খান ইউনিস শহর। গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কিছুদিন পর গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। পরে উত্তর থেকে দক্ষিণে ক্রমে ক্রমে নানা জায়গায় অভিযানের কেন্দ্র তৈরি করে হামলার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর গতকাল শুক্রবার বলেন, খান ইউনিস শহরে আগ্রাসনের কারণে অনেক মানুষ মিসরসংলগ্ন রাফাহ শহরের দিকে পালিয়েছে। এখন রাফাহ শহরকে অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর অর্থ হলো ওই অঞ্চলকে ‘দুরাশার প্রেশার কুকার’-এ পরিণত করা।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারীর দপ্তরের মুখপাত্র জেনস লায়ের্কে বলেন, ‘খান ইউনিস শহরে সংঘাত বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ যারা রাফাহ শহরে আশ্রয় নিতে গিয়েছে, আমরা তাদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের ওপর জোর দিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি দক্ষিণের দিকে ছুটছে। এরই মধ্যে সেখানে ২৩ লাখ মানুষের অর্ধেকরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। রাফাহ এখন দুরাশার প্রেশার কুকারে পরিণত হয়েছে। আমরা ভয়ে আছি, সামনে কী ঘটে তা নিয়ে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী এখন দক্ষিণ গাজায় অগ্রসর হবে। খান ইউনিসে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি এবং আমরা এখন রাফাহতে যাব। যেসব সন্ত্রাসী আমাদের হুমকি দিচ্ছে তাদের নির্মূল করতে যাব আমরা।’
এ অবস্থায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে ১১২ জন।
গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আট শতাধিক কর্মকর্তা একটি চিঠি লিখেছেন, যেখানে সতর্ক করা হয়, দেশগুলো ইসরায়েল-গাজা সংঘাতে যে নীতি গ্রহণ করছে তা ‘আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন’। এতে বলা হয়, দেশগুলোর প্রশাসন গাজায় সংঘটিত ‘শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মানকি সংকটের’ সঙ্গে জড়িত; কিন্তু এ নিয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষজ্ঞ মতামতকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের চলতি নৃশংসতা নিয়ে সারা বিশে^ই প্রতিবাদের ঢেউ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বড় বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের কাছে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ওই বিক্ষোভ।
সর্বশেষ প্রকাশ্যে আসা ওই বিবৃতির মধ্য দিয়ে বোঝা গেল, ইসরায়েলের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে।
ওই বিবৃতিতে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এতে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েল তার সামরিক অভিযানের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। শাস্তিযোগ্য এ কর্মকা-ে সরকারগুলোর নীতি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনের মতো কর্মকা-ে মদদ দিচ্ছে।
আবার বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল বলা হয়, ইসরায়েল গাজায় বেলজিয়াম উন্নয়ন সংস্থা ‘এনেবল’-এ বোমা ফেলেছে। এ ঘটনায় ব্রাসেলসে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতকে তলব করা হয়েছে।
