মোহামেডানে থামল কিংসের জয়রথ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০০ এএম

কিংস অ্যারেনাকে রীতিমতো দুর্গে পরিণত করেছিল বসুন্ধরা কিংস। শুরুটা সেই ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে। যেদিন দেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে নিজেদের মাঠে শুরু হয়েছিল তাদের অজেয় যাত্রা। এরপর কেটেছে ৭১৫ দিন। এই মাঠে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে কিংস খেলেছে ৩১ ম্যাচ। যার একটিও হারেনি তারা। অবশেষে সেই জয়ের গাড়ি থামল বত্রিশে এসে। থামাল মোহামেডান। প্রথমার্ধে মিনহাজুর আবেদিন রাকিবের অসাধারণ গোলটাই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ব্যবধান। তাতে জমে উঠল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও। শনিবার ষষ্ঠ রাউন্ডে এসে অবিশ্বাস্য এই জয়ে কিংসের সঙ্গে ব্যবধানটা এক পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে সাদা-কালোরা। ছয় ম্যাচ শেষে কিংস শীর্ষে আছে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে। সমান ম্যাচে মোহামেডানের সংগ্রহ ১৪।

বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ৩-০ তে উড়িয়ে এই মাঠের অভিষেকটা রাঙিয়েছিল কিংস। হোম গ্রাউন্ডে শনিবার তারা খেলতে নেমেছিল ৩২তম ম্যাচ। আগের ৩১ ম্যাচের ৩০টায় জয়, একটা ড্র। সেই রেকর্ডটাই কাল ভাঙল আলফাজ আহমেদের শিষ্যরা। এখানে রাকিবের গোলের কৃতিত্ব অনেকটা। তবে আলফাজের কৌশলের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। প্রতিপক্ষের ডাগআউটে ছিলেন পরীক্ষিত অস্কার ব্রুজোন। তবে এই স্প্যানিশকে কৌশলে হারিয়ে আরেকবার নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখলেন জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা।

ম্যাচের শুরু থেকেই সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রবল প্রতিপক্ষকে ভয় পেয়ে নয়, বরং শিষ্যদের হৃদয়ে আলফাজ গেঁথে দিয়েছিলেন লড়াইয়ের মন্ত্র। সেটাকে পুঁজি করে শুরু থেকে মোহামেডান খেলেছে পরিকল্পিত ছকে। অন্যদিকে নিজ আঙিনায় কিংসকে ভীষণ অগোছালো মনে হয়েছে শুরু থেকে। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে গিয়ে তারা বারবার খেই হারিয়েছে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে কিংস অধিনায়ক রবসন রবিনহো বল হারালে সেটা পেয়ে মানিক মোল্লা বাড়ান সুলেমান দিয়াবাতেকে। মোহামেডানের এই ভয়ংকর ফরোয়ার্ড বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শট নেন। যা দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ম্যাচের ৪০ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ গোলে মোহামেডানকে এগিয়ে নেন তরুণ মিডফিল্ডার মিনহাজুর আবেদিন রাকিব। নিজেদের রক্ষণ আলগা করে আক্রমণে উঠতে গিয়ে মোজাফফরভের কাছে বল হারান তপু বর্মণ। উজবেক মিডফিল্ডার দ্রুত পাস দেন দিয়াবাতেকে। নিজেদের অর্ধে দিয়াবাতের পাস আয়ত্তে নিয়ে রাকিব ছুটে যান কিংসের বক্সের দিকে। সে সময় তিনজন ডিফেন্ডার তাকে ধরে রাখতে পারেননি। এগিয়ে গিয়ে বক্সের বেশ বাইরে থেকে রাকিব বাঁ পায়ের শট নেন, যা বাঁক খেয়ে আনিসুর রহমান জিকোকে বোকা বানিয়ে জালে জড়ায়।

বিরতি থেকে ফিরেও মোহামেডান গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। ৫০ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে অনেকটা দূর থেকে ডানপায়ের জোরালো শট নেন মোজাফফরভ। তবে তা বাইরের নেটে আঘাত করে। ৬২ মিনিটে বলার মতো সুযোগ তৈরি করেছিল কিংস। তবে তাদের ইনফর্ম স্ট্রাইকার ডরিয়েলটন গোমেজ হেলায় সে সুযোগ হারান। ডান দিক থেকে মিগেল ফিগেইরার ক্রসে মাথা ছোঁয়ালেও তা লক্ষ্যে থাকেনি। ৬৮ মিনিটে রবিনহোর থ্রু ধরে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন মিগেল। যা সরাসরি যায় মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনের কাছে। ৭৭ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের লো-ক্রস রবিনহোর পায়ে পৌঁছানোর আগেই ক্লিয়ার করেন মোহামেডান ডিফেন্ডার হাসান মুরাদ। ৮২ মিনিটে জিকোর দৃঢ়তায় বেঁচে যায় কিংস। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জোরালো শট নিয়েছিলেন সুলেমান দিয়াবাতে। তবে জিকো বুক চিতিয়ে মালির ফরোয়ার্ডের প্রচেষ্টা রুখে দেন। ৮৯ মিনিটে আহত মোহামেডান কিপার সুজনের জায়গায় নামেন সাকিব আল হাসান। এর এক মিনিট পর অবিশ্বাস্যভাবে চতুর্থ রেফারি নিয়ন বাতি জ্বালিয়ে দেখান ১৩ মিনিট অতিরিক্ত সময়। তবে বদলি গোলকিপার সাকিবের দৃঢ়তায় মোহামেডান শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে মিগেলের আড়াআড়ি ফ্রি-কিকে রবিনহোর শট দারুণভাবে রুখে দেন সাকিব হাসান। পরের মুহূর্তে গফুরভের ক্রসে ডরিয়েলটনের হেড আয়ত্তে নেন এই বদলি গোলকিপার। শেষ পর্যন্ত কিংসের সাঁড়াশি চেষ্টা ব্যর্থ হলে মোহামেডান দ্বিতীয় দল হিসেবে চলতি লিগে থাকে অপরাজিত।

গোপালগঞ্জে দিনের অপর ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। দ্বিতীয়ার্ধে মান্নাফ রাব্বির লিড এনে দেওয়ার পর শেষ দিকে ডেভিড ইফেগুইয়ের লক্ষ্যভেদে ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙে চট্টগ্রামের দলটি। আগের পাঁচ ম্যাচে মেলেনি জয়ের দেখা। দুটিতে হার, ড্র তিনটিতে। জামালকে হতাশ করে ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের ৯ থেকে এক ধাপ উঠে এসেছে। শেখ জামালের অবস্থাও ভালো নয় চলতি লিগে। তিনবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা ছয় ম্যাচে চতুর্থবারের মতো হারল। সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল গড়ে পিছিয়ে তারা নেমে গেছে ৯-এ। কোচ বদলেও ভাগ্যে বদল আনতে পারেনি শেখ জামাল। জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর অভিষেকটা হলো তাই হারে।

রাজশাহীতে ফর্টিজ এফসির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ব্রাদার্স। ফর্টিজের বিপক্ষে দুই দফা এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি ব্রাদার্স। ছয় ম্যাচে জয়হীন থাকা ব্রাদার্সের এটি তৃতীয় ড্র। ৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তলানিতেই বসবাস ব্রাদার্সের। টানা তৃতীয় ড্রয়ে ফর্টিজ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে ছয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত