তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা আর না খেলার মধ্যে ব্যবধান হয়ে রইল ৫টা রান। মোহাম্মদ জিশানের করা বলটা মারুফ মৃধার স্টাম্প ভেঙে দেওয়ার পর বাউন্ডারি লাইনের সামনে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের খুশিতে মাঠে গড়াগড়ি খাওয়ার দৃশ্যের অন্যপ্রান্তে নীরব নিথর হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা রোহানত দৌলা বর্ষণের চেহারাটাও দেখাল ক্যামেরায়। তাতে ভর করেছে রাজ্যের বিষাদ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনিতে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পাকিস্তানকে রান রেটে টপকে জিততে হবে, এই ছিল সমীকরণ। প্রথম ভাগে সেই অঙ্ক অনেকটাই মিলিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ৪০.৪ ওভারে পাকিস্তানকে ১৫৫ রানে অলআউট করে। রোহানত দৌলা বর্ষণ আর শেখ পারভেজ জীবন, দুজনেই করেছিলেন দারুণ বোলিং। ৪ উইকেট করে শিকার দুজনেরই, বর্ষণের খরচ ৮ ওভারে ২৪ রান আর জীবনের ১০ ওভারে ২৪। দারুণ এক থ্রোতে পাকিস্তানের অধিনায়ক সাদ বেগকে রানআউট করেন আরিফুল ইসলাম, অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বী নিয়েছেন বাকি উইকেটটা।
পাকিস্তানকে রান রেটে টপকে জিততে হলে ১৫৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে হবে ৩৮.১ ওভারে। সেই লক্ষ্যে ছোটাটা কঠিন বানিয়ে তোলেন পাকিস্তানের পেসাররা আর ফিল্ডাররা। ক্রমাগত অফস্টাম্পের বাইরের চ্যানেলে বল করে গেছেন উবাইদ শাহ, পাকিস্তান জাতীয় দলের পেসার নাসিম শাহের ছোটভাই। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ক্যাচ দিয়েছে উইকেট রক্ষকের গ্লাভসে নয়তো সিøপ ফিল্ডারের হাতে। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের কাছে, দুই উইকেট উবাইদের আর একটি আলি রাজার। ৪৭ রানে ৩ উইকেট চলে যাওয়ার পর কিছুটা প্রতিরোধ আরিফুল ইসলাম আর আহরার আমিনের ব্যাটে। ২০ বলে ১৪ রানে থাকা আরিফ ক্যাচ দেন পয়েন্টে, সেটা দারুণভাবে লুফে নেন শামায়েল হোসাইন। ২৩ বলে ১১ রান করা আহরার আমিনও সিøপে হারুন আরশাদের ডাইভিং ক্যাচের শিকার। দ্রুত দুই উইকেটের পতনের পর শিহাব জেমস আর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বীর ব্যাটে ভরসা পায় বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে দুজনে মিলে যোগ করেন ৬১ বলে ৪০ রান। এরপর আবার ছন্দপতন। শিহাব জেমসের ক্যাচ ছাড়া উবাইদ শাহ নিজে বোলিংয়ে এসে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ২৬ রান করা শিহাবকে। কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১৩ রান করা রাব্বীও। শেষের লড়াইটা জমিয়ে তোলেন বর্ষণ আর মারুফ। শেষ উইকেট জুটিতে ২৫ বলে ২৩ রান করে তারা দলকে অনেকটাই নিয়ে গিয়েছিলেন লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি। আর মাত্র ৫টা রান হলেই বাংলাদেশই পৌঁছে যেত সেমিফাইনালে। কিন্তু জিশানের বলে মারুফ বোল্ড হওয়াতে ৩৫.৫ ওভারে ১৫০ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। শেষ হয়ে যায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযান।
