পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নাঙ্গুলী গ্রামের কৃষক সুভাষ চন্দ্র বৈরাগী ও স্ত্রী পাপড়ি বৈরাগী। পৈতৃক জমি থেকে মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে প্রথমে শুরু করেছিলেন সবজি চাষ। এখন ৯ বিঘা জমিতে চাষ করছেন। ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন সবজি ও ফল চাষ করে। এর মধ্যে দুই বিঘা জমিতে করছেন সবজির ক্ষেত। যেখানে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, মুলা, শালগম, গাজর, শিমসহ ভিন্ন প্রকারের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করেন। পাশাপাশি রয়েছে পুষ্টি বাগান, ফলের বাগান, মাল্টার, আমের বাগান। গত মৌসুমে ৫০ মণ মাল্টা আর ১০ মণ আম বিক্রি করেছেন তারা। বাকি ৫ বিঘায় ধান চাষের পর সূর্যমুখী, মুগ, খেসারি, ভুট্টা, বাদাম চাষ করেন।
সুভাষ চন্দ্র বৈরাগী বলেন, স্কুলে পড়াকালেই বাবার সঙ্গে কৃষিজমিতে কাজ করতেন। এসএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সেই থেকে কৃষিকাজ করছেন। একসময় কৃষি অফিসের সহায়তায় পরিকল্পিত কৃষি খামার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। বিয়ের পরে স্ত্রী পাপড়ি বৈরাগী তার কৃষিকাজে সহযোগী হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে ক্ষেতের পরিধি বৃদ্ধিসহ আধুনিক চাষাবাদে মনোযোগী হন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। তারা জমি তৈরি থেকে মৌসুম অনুযায়ী চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। বীজ, সার দিয়ে সহায়তা করেন। এভাবে চলছে তাদের কৃষিকাজ। ভার্মি কম্পোজ সার তৈরি করে বিক্রিও করেন।
দুজনের পরিশ্রমে আজ তাদের সংসারে স্বাচ্ছন্দ এসেছে। ছেলেমেয়ে পড়াশুনা শেষ করে প্রাতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তিনি সফল কৃষি উদ্যোক্তায় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বৃদ্ধি পেয়েছে জমির পরিধি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা দাস বলেন, আবাদের জন্য প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে সার, বীজসহ সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়। ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চাষিদের সার্বিক অবস্থা মনিটরিং করা হয়। ফলে শাকসবজির উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈরাগী দম্পতি তাদের পরিশ্রমে আজ তারা কৃষক থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হয়েছেন। তাদের তৈরি ভার্মি কম্পোজ গোটা উপজেলায় সুনাম সৃষ্টি করেছে।
