সিংগাইরে পুলিশের সামনে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪৭ এএম

মানিকগঞ্জে সংঘর্ষ থামাতে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সামনেই এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সকালে সিংগাইর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে হামলার শিকার হওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবদুল কুদ্দুস (৫২) একই উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের প্রয়াত মিনাজ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি বাঁশ ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আটিপাড়া গ্রামে শনিবার সকালে দুপক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাদের মধ্যে আবদুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এলাকার অনেকেরই ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। খুন হওয়া কুদ্দুস দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর সমর্থক ছিলেন। অন্যদিকে হামলাকারীরা নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী মমতাজ বেগমের সমর্থক।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সিরাজপুর হাটের উত্তর পাশে আবু কালামের নেতৃত্বে মিলন, জুবায়ের, আবদুল আলীম, রাসেল, জব্বার, হারুনসহ ১০-১৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ শাহিনুর ও ফারুকের ওপর হামলা করে। এ সময় হামলাকারীদের দায়ের কোপে শাহিনুরের বাম পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফারুক জখম হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ খবর পেয়ে শান্তিপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আবদুস সালামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যায়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই দ্বিতীয় দফায় আটিপাড়া মসজিদের সামনের পাকা রাস্তায় ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুসের ওপর হামলা করে প্রথম দফার হামলাকারীরা। তাদের এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে গুরুতর আহত হন কুদ্দুস। তাকে বাঁচাতে বোন জাবেদা এগিয়ে গেলে তিনিও জখম হন। পরে কুদ্দুসকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আহত জাবেদা অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতেই আমার ভাইকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পুলিশ ব্যবস্থা নিলে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটত না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শান্তিপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আবদুস সালাম মিয়া বলেন, ‘কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিনি। আমাদের কথা না শোনায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ওসি ও সার্কেল এএসপি স্যার অবগত।’

সিংগাইর থানার ওসি মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান, প্রথম হামলার ঘটনায় মামলার পর জড়িত হারুন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত