বালাইনাশক ব্যতিরেকে উচ্চমান পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ সবজি হিসেবে রঙিন ফুলকপি পরিচিত। ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদসহ জৈব বালাইনাশক বায়ো চমক ব্যবহার করা হয়েছে রঙিন ফুলকপি চাষে। আকর্ষণীয় তাই বাজারে ক্রেতার চাহিদা বেশি।
অধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবজি হিসেবে নজর কাড়ছে কৃষি বিভাগ, চাষিসহ ভোক্তাদের। কৃষি বিপ্লবে সাড়া ফেলছে ‘রঙিন ফুলকপি’। এতে সালফার, পটাশিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খনিজ উপাদান রয়েছে।
জানা গেছে, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রংপুরের তারাগঞ্জে কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামের অবিনাশ চন্দ্র ও ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের মাসুদ রানা পরিক্ষামূলকভাবে উচ্চমূল্য নিরাপদ সবজি প্রদর্শনী ‘রঙিন ফুলকপি’র’ চাষ শুরু করেন।
সরজমিন গতকাল রবিবার বিকেলে চাষি অবিনাশ চন্দ্র জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় রঙিন ফুলকপির চারা সার কীটনাশকসহ সার্বিক সহায়তা পেয়েছি। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি ওই চারাগুলো রোপণ করেছি। রাসায়নিকের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহার করেছি। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপি উৎপাদন খরচ কম। প্রায় তিন মাসের মধ্যে ফল আসে। বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি রঙিন ফুলকপি ৫০-৬০ টাকায় জমিতে বিক্রি করেছি। এবারে জমিতে সাদা ফুলকপির চেয়ে ৪-৫ গুণ লাভবান হয়েছি এ কপি চাষ করে। প্রতিবেশীসহ আশপাশের লোকজন প্রতিদিন ক্ষেতে দেখতে আসছে।
মাসুদ রানা বলেন, ৩০ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি আবাদ করেছি। ফসলের মাঠে দেখতে সুন্দর, মনটা জুড়িয়ে যায়। উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ফলন ভালো হয়েছে তেমন বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়নি। আসলে প্রকৃত দামে বিক্রি করতে পারলে অনেক লাভবান হব। তিনি আরও বলেন, আমি ব্রকলি গত বছর করেছিলাম। নিজে থেকে এবারও আবাদ করেছি, ব্রকলি খেতে খুবই সুস্বাদু। কৃষি অফিসের পরামর্শ-সহায়তা সব সময় পেয়েছি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সায়েদ বলেন, কীটনাশকের তেমন ব্যবহার করা হয়নি। পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ সবজি হিসেবে রঙিন ফুলকপি আমার ব্লকে অবিনাশ চন্দ্র প্রদর্শনী করেছেন। প্রতি সপ্তাহে কয়েকদিন নজরদারি করেছি। আশা করছি সাধারণ ফসলের চেয়ে অনেক বেশি দাম পাবেন চাষি।
কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, ফুলকপিতে সালফার, পটাশিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারযোগ্য কপিতে ৯০ দশমিক ৮ গ্রাম পানি, ২ দশমিক ৬ গ্রাম আমিষ, শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম চর্বি, শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম শ্বেতসার, এক দশমিক ৯ গ্রাম খনিজ লবণ রয়েছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই রঙিন ফুলকপি। সাদা ফুলকপি চেয়ে রঙিন ফুলকপির পুষ্টিগুণ বেশি। উপজেলায় দুটি প্রদর্শনী পরিক্ষামূলক করা হয়েছে। চাষিরা ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেশ খুশি।
