যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর গত বছর চীন থেকে একশ কোটি ডলারের কাজ গুটিয়ে নিয়েছে মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ সরবরাহ টেরাডাইন। মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চিপ যন্ত্রাংশের সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটার পর গেল সোমবার এ তথ্য দিয়েছেন টেরাডাইনের এক মুখপাত্র।
কোম্পানিটির সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষার যন্ত্রাংশ তৈরির মূল কাঁচামাল আসত চীনের সুঝউ শহরের কারখানা থেকে। আর এ চুক্তির অংশ ছিল মার্কিন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কোম্পানি ফ্লেক্সিট্রনিক্স। চীনের সামরিক বাহিনী যেন মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ না পায়, সেই লক্ষ্যে ২০২২ সালের অক্টোবরে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির কাঁচামাল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ চালু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই চীন থেকে নিজস্ব যন্ত্রাংশ উৎপাদনের কাজ সরিয়ে নেয় ম্যাসাচুসেটস-ভিত্তিক কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে বেশ কিছু মার্কিন কোম্পানি।
মঙ্গলবার নিজেদের আর্থিক আয়ের হিসাব প্রকাশ করছে টেরাডাইন। এদিকে, ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সে বছরের অক্টোবরে জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছিল কোম্পানিটি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে কোম্পানিটি বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞার পর চীনের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে পণ্য বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি টেরাডাইনের উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনেও চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন টেরাডাইনের বৈশ্বিক নীতি বিভাগের পরিচালক ব্রায়ান আমেরো। ‘আমরা চীনে উৎপাদনের কাজ করতাম। আর এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে অনুমতি নিতে হয়েছে’ ম্যাসাচুসেটস এক্সপোর্ট সেন্টারের বার্ষিক ‘এক্সপোর্ট এক্সপো’ আয়োজনে বলেন আমেরো।
‘বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা দ্রুতই চীন থেকে উৎপাদনের কাজ গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’এ ছাড়া, অনুমতি থাকার পরও কিছু সংখ্যক সরবরাহক টেরাডাইনের কাছে কাঁচামাল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কোম্পানির সরবরাহ চেইনে ব্যঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আমেরো।
‘এটা এখনো বড় সমস্যা’, সম্মেলনটির ‘দ্য চায়না ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট : কমপ্লায়িং উইথ এক্সপোর্ট কনট্রোলস হোয়াইল মেইনটেইনিং ইয়োর স্যানিটি’ শীর্ষক সেশনে বলেন আমেরো। এদিকে, টেরাডাইনের ওপর মার্কিন বিধিনিষেধের ‘সরাসরি প্রভাব’ না পড়লেও আমেরো বলেছেন, এতে কোম্পানির ওপর ‘বড় প্রভাব’ পড়েছে, যার ফলাফল দেখা গেছে কোম্পানির বাজার অংশীদারত্বেও।
