কোচ নিয়োগে অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৬ এএম

ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অনেক সাপোর্ট স্টাফেরই মেয়াদ ফুরিয়েছে। তাদের জায়গাগুলো এখনো ফাঁকা। ব্যাটিং কোচ, পেস বোলিং কোচ, ফিজিও, স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচসহ বেশ কতগুলো পদেই লোক চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কোচ বাছাইয়ের জন্য কমিটিতে থাকা নাঈমুর রহমান দুর্জয় কাল প্রথম দিনের সাক্ষাৎকারপর্ব শেষে জানালেন, নিয়োগের বেলায় বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিংবা আগ্রহকেই তারা প্রাধান্য দেবেন।

সাবেক টেস্ট অধিনায়ক এবং বিসিবি পরিচালক নাঈমুর রহমানের সঙ্গে এই কমিটিতে আছেন ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির সভাপতি জালাল ইউনুস, গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, হেড অব প্রোগ্রাম ডেভিড মুর ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। প্রথম দিনে অনলাইনে এবং সশরীরে ব্যাটিং কোচ ও পেস বোলিং কোচদের সাক্ষাৎকারই নিয়েছেন তারা। নাঈমুরের কাছ থেকেই জানা গেল, এই পদগুলোতে এরই মধ্যে বিসিবিতে কর্মরত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ স্টুয়ার্ট ল, এইচপির কোচ ডেভিড হেম্প, পেস বোলিং কোচ কোরে কোলিমোরও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে অতীতে দায়িত্ব পালন করা থিলান সামারাবিরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের পেস বোলিং কোচ মাহবুব আলি জাকি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। শন টেইটের পেস বোলিং কোচ হিসেবে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার একটা সমঝোতা হওয়াতে টেইট আর সাক্ষাৎকারে আসেননি। কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলর আগ্রহী হলেও তার শর্ত আর সময়ের সঙ্গে মেলেনি বিসিবির। তুষার ইমরান আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর।

লম্বা আলাপচারিতায় নাঈমুর জানালেন অনেক কিছুই, ‘আমরা কোচদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছি সবাই আসার আগে বলে বাংলাদেশে অনেক প্রতিভা কিন্তু মাঠে গেলে তারা পারফরম করতে পারে না কেন? কোচদের মনে হয়েছে যে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা উদ্যোগী না। তারা সমস্যা নিয়ে কোচের কাছে আসে না। কোচ সবাইকে সাধারণভাবে যা বলে তারা ততটুকুতেই সন্তুষ্ট। নিজের সমস্যা নিয়ে কোচের কাছে আসে না বলে নিজেও ভুক্তভোগী হয় এবং দলকেও ভুগতে হয়।’

এইচপি ইউনিটের চেয়ারম্যান নাঈমুর আরও জানান, কেন এইচপির কোচেরা জাতীয় দলেও চাকরি প্রত্যাশী, ‘এইচপি বা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আমাদের এখানে কাজ করে এমন অনেকে জাতীয় দলে আবেদন করেছে। তাদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছি কেন তারা জাতীয় দলে কাজ করতে চায়। তারা বলেছে ক্যারিয়ারের উন্নতির কথা, বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের আগ্রহের কথা। আমরা চাই বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী এই রকম মানুষদের যাতে করে তারা আমাদের ক্রিকেটকে বেশি সময় দেয়।’

এই সময়ে এসে অনেক কোচই ব্যস্ত হয়ে গেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। বিসিবিতে আগামীতে যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার পক্ষেই মত দিলেন নাঈমুর, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কারণে অনেক কোচই জাতীয় দলে আগ্রহী হচ্ছে না। মাস দেড়েকে তারা অনেক অর্থ পাচ্ছে। যেমন টম মুডি, অনেক চাহিদাসম্পন্ন কোচ কিন্তু জাতীয় দলে কোচিং করাচ্ছে না। আমাদের নিজেদের একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আছে। আমরা আদর্শ পরিস্থিতিতে চাইব না আমাদের কোচেরা অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সম্পৃক্ত হোক।’

সংবাদ মাধ্যমে অ্যাডাম হোলিওক, আন্দ্রে অ্যাডামস-সহ অনেক নামই এসেছে। নাঈমুর জানিয়েছেন অনেকেই আবেদন করেছেন, তারা বেছে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং আগামীতে তারা আবেদনকারীদের ব্যাপারে পর্যালোচনা করে নিজেদের সুপারিশ জানাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত