রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে কিশোরী এক গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম প্রীতি (১৫)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ২/৭ নম্বর ওই ভবনের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিশোরীর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে ওই ভবনের ৯তলার বাসিন্দা আশফাকুল হকের বাসায় কাজ করত।
এ ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন গৃহকর্তা সৈয়দ আশফাকুল হক (৫৬), তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকার (৪৬), মেয়ে আফরিন হক, ছেলে সৈয়দ আনাফ মাহমুদ, তার ভায়রা আল রাজি মাহবুব ও শ্যালিকা রাজিয়া খন্দকার।
গৃহকর্তা আশফাকুলের দাবি, তারা ওই সময় ঘুমিয়েছিলেন। পরে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন গৃহকর্মী প্রীতি বাসার নিচে পড়ে আছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রীতির মরদেহ ওই বাসার নিচে পড়ে ছিল। পরে লোকজন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। প্রীতির গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার। ছয় মাস আগে সে আশফাকের বাসায় কাজ করতে এসেছিল।
তেজগাঁও বিভাগে ডিসি আজিমুল হক বলেন, কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ জন্য ওই বাড়ির গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রীসহ ছয়জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাহফুজুল হক বলেন, ‘গৃহকর্তা দাবি করেছেন, তার গৃহকর্মী বাসা থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে।’
গত ৫ আগস্ট গৃহকর্তা সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসা থেকে ফেরদৌসী নামে আরেক গৃহকর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ফেরদৌসীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই গৃহকর্মী বাসাটির ৯তলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন গৃহকর্তা আশফাকুল।
ওই ঘটনায় গৃহকর্মীর মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নামে একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন সৈয়দ আশফাকুল হক, তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকার। ফেরদৌসীকে ওই বাসায় এনে দেওয়ার জন্য আসমা আক্তার শিল্পী নামে একজনকেও আসামি করা হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় সাত মাসের মাথায় এবার গৃহকর্মী প্রীতির লাশ উদ্ধার করল পুলিশ।
