খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে বিআইডব্লিউটিএ। খুলনা সদর থানায় কতৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদি এ মামলা করেন।
মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। অন্যদিকে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
তারা জানান, ওই জমির কথিত লিজ গ্রহিতা মো. ফয়েজুল ইসলাম টিটোর কতিপয় বহিরাগত সন্ত্রাসী বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ প্রশাসনের ওপর হামলা চালায়। যা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা। মামলায় নিরীহ ও দরিদ্র সমিল শ্রমিকদের আসামি করা ৫০ বছরের ব্যবসা থেকে উচ্ছেদের নীল নকশার অংশ মাত্র।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন খান জানান, কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকা জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সরকারি কাজে বাধাঁ, হামলা, ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন ও আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএ উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী ৫ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে যাই। কিন্তু সেখানে অবৈধ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে ৪ জনকে আহত করে।
এদিকে বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সেলিম কাজী বলেন, রূপসা স্ট্যান্ড রোডে প্রতিটি মিলে নারী ও পুরুষ মিলে ৩৫ থেকে ৪০ জন শ্রমিক কর্মরত আছে। ৩৯টি ছোট বড় সমিল ১৪ শত শ্রমিক কাজ করে। ১৪০০ শ্রমিকের পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা জড়িত। এ ছাড়া ভ্যান, ঠেলাগাড়ী, ট্রাক ও ট্রলার শ্রমিকদের সংখ্যা আরো ৫ হাজার।
তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। সেইসাথে মুদি দোকান, চায়ের দোকান, হোটেল ও কাঠ ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজার। এ ব্যবসার সাথে ৩৯টি ছোট বড় সমিল ঘিরে প্রায় দুই লাখ মানুষের রুটি রুজি জড়িত।
কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আরও বলেন, গত ২০১৩ সাল থেকে ব্যবসায়ীরা ডিসিআর পেতে আবেদন করে আসছে। কিন্তু দেওয়া হয়নি। হঠাৎ ১০ জানুয়ারি জায়গা ছড়তে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু এতো স্বল্প সময়ে ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া কঠিন ব্যাপার।
