প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকরি মেলায় নিয়োগপত্র পেলেন ৩৫ জন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৭ পিএম

বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের জন্য রাজধানীতে চাকরি মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। এতে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৩৫ জন প্রতিবন্ধীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এই মেলার মাধ্যমে প্রায় ৫০ জনকে চাকরি দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা আয়োজক কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া সংক্ষিপ্ত তালিকা করে ২ শতাধিক চাকরিপ্রার্থীকে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

আজ শনিবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অফিস ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এতে সহযোগিতা করছে সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি (সিএসআইডি) এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো। মেলায় প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থীরা ছাড়াও ৪৮টি আইসিটি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

বিসিসির মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১৫ সাল থেকে এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চাকরি মেলার মাধ্যমে ৯ শতাধিক আইসিটিতে দক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরিশ্রমী। সুস্থ, স্বাভাবিক তরুণ-তরুণীদের চেয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বেশি মনোযোগ দিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে সেবা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধীরা আমাদের ভাই-বোন এবং তাদের সুযোগ দিতে হবে। তারা তাদের শ্রম, মেধা ও দায়িত্বশীলতা দিয়ে অন্যান্যদের চেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে। দেশের কোনও প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েরা ঘরে বসে থাকবে না। তারা পরিবার বা দেশের বোঝা হবে না। প্রতিবন্ধীদের একটু সহযোগিতা এবং সুযোগ দিলে তারা দেশের সম্পদ হয়ে বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য শুধু চাকরির মেলা নয়, প্রতিবন্ধীরা উদ্যোক্তা হয়ে আরও হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ঘরে বসেই যেন প্রতিবন্ধীরা দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন সেজন্য এম্পোরিয়া পোর্টাল ব্যবহারে আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি এনজিওগুলোতেও যেন প্রতিবন্ধীদের চাকরি দেওয়া হয় সেজন্য এনজিও ব্যুরো মহাপরিচালককে অনুরোধ জানান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ‘কোনো মানুষই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধী হয় না। এটা প্রকৃতি প্রদত্ত। তারা সমাজের বোঝা নয়। পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিদের অবশ্যই আমাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আমরা উপলব্ধি করতে না পারলে তারা কখনই সামনে এগিয়ে আসতে পারবে না।’

বিসিসির নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) রণজিৎ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মো. সাইদুর রহমান, সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম এবং বিসিসির প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মো. গোলাম সারওয়ার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, মেলা উপলক্ষে আগে থেকেই সারা দেশ থেকে ৫ শতাধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে তাদের সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। পাশাপাশি মেলায় সরাসরি উপস্থিত হয়েও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন অনেকে। যাদের তথ্য প্রযুক্তির দক্ষতা রয়েছে তাদের নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকার নেন অংশ নেওয়া চাকরিদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কল সেন্টার এজেন্ট, ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যানিমেশন, প্রোগ্রমিংসহ নানা প্রকার পদের জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি চাকরিপ্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে চাকরী মেলার শেষে নিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির ব্যবস্থা করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) এর সদস্যভুক্ত আইসিটি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানসমূহ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত