৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিনই শুক্রবার ‘দ্রুততম মানবী’র খেতাবটি ১৫তম বারের মতো নিজের করে নিয়েছিলেন নৌবাহিনীর স্প্রিন্টার শিরিন আক্তার। গতকাল শনিবার প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে তিনি জেতেন আরও তিনটি স্বর্ণ। ব্যক্তিগত ইভেন্টে ১০০ মিটারের পর ২০০ মিটারেও প্রত্যাশিত পদকটি নিজের করে নেন শিরিন। সঙ্গে দলীয় ইভেন্ট হিসেবে ১০০ মিটার রিলে ও ৪০০ মিটার রিলে দুটোতেই নৌবাহিনীকে স্বর্ণ এনে দেন দেশের দ্রুততম মানবী।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৪০০ মিটার রিলে দৌড় ইভেন্ট ছড়িয়েছে উত্তেজনা। নৌবাহিনীর শেষ সদস্য হিসেবে শিরিন যখন ব্যাটন নেন তখন সেনাবাহিনী দলের স্প্রিন্টার ছিলেন তার চেয়ে এগিয়ে। প্রথম ৩০০ মিটার পিছিয়েই ছিলেন শিরিন। শেষ ১০০ মিটার দৌড় যখন শেষ করেন তখন বাকি সবাই তার পেছনে। নাটকীয়তা শেষে নৌবাহিনী অর্থাৎ শিরিনের দলের হাতেই ওঠে সেরার পদক।
তার আগেই অবশ্য জিতে নেন ১০০ মিটার রিলে ও ব্যক্তিগত ২০০ মিটার স্প্রিন্ট। যেখানে নিজের আগের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। ২০১৯ সালের আগস্টে ২৪.৯৭ সেকেন্ডের টাইমিং ভেঙে এদিন ফিনিশিং লাইন পার করেন ২৪.৬৮ সেকেন্ডে।
দিনশেষে শিরিন জানান, ‘৩০০ মিটার পর্যন্ত আমি আমার মতো দৌড়েছিলাম, বাকিটা দর্শকের জন্য দৌড়েছি। আমি জানি না, আল্লাহ আমাকে কীভাবে নিয়ে এলেন, আমার মনে হয় টাইমিং ধরলে ৪০০ মিটার রিলেতে এটা সেরা টাইমিং।’
দুই দিনে শিরিন জিতেছেন চারটি স্বর্ণ। তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘অনুভূতি কখনোই বোঝানোর মতো নয়। সব মানুষেরই নিজস্ব যে অনুভূতি থাকে, অনেক অসাধারণ কিছু থাকে, অনেক গল্প থাকে পেছনে, কষ্ট থাকে, অনেক বাধা থাকে। আমার পেছনে যত বাধাই থাকুক, আমার কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফি, বিকেএসপি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, আমার যা এবং যখন কিছু প্রয়োজন হয়েছে, সবসময় চেষ্টা করেছে আমাকে সেটা দেওয়ার।’
শিরিনের কারিগর বিকেএসপির সাবেক কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফি নিজের প্রিয় শিষ্য সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জানান, ‘শিরিন অত্যন্ত পরিশ্রমী অ্যাথলেট। ও নিয়মিত অনুশীলন করে। এটাই তার সাফল্যের মূল কারণ। কোথাও বেড়াতে গেলেও সে ট্র্যাকসুট নিয়ে যায়। বিউটি ও অন্য দ্রুততম মানবীদের মতো মেধাবী না হলেও সে পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
অ্যাথলেটদের কাছে বয়স একটি বড় বিষয়। শিরিনের বয়স এখন ত্রিশ ছুঁইছুঁই। এ প্রসঙ্গে দ্রুততম মানবী বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে আমি সিনিয়র পর্যায়ে খেলি। ক্লাস সেভেন থেকে আমি দ্রুততম বালিকা ও পরে কিশোরী হয়েছি। দ্রুততম মানবী হয়েছি, যেটা এবার ১৫তম বারে এসে দাঁড়াল। ২০০ মিটারের রেকর্ডটিও আমার ছিল (২৪.৯৭), সেটি আবার নতুন করে মজবুত করতে পেরেছি, নতুন রেকর্ড গড়তে পেরেছি, এটা আসলে অসাধারণ। কোচ আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আগেও বলেছি আর কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা পেছন থেকে আমাকে অনেক সাপোর্ট করে। যে জন্য আমি নিজের কাজটা করতে পারছি।’
শিরিনের কৃতিত্বে সেনাবাহিনীর ১৯ স্বর্ণের বিপরীতে নৌবাহিনীর স্বর্ণসংখ্যা ২০। রৌপ্য পদকে অবশ্য আরও এগিয়ে নৌবাহিনী। এর আগে সবশেষ ২০২১ সালে হওয়া নবম বাংলাদেশ গেমসেও শিরিন চারটি স্বর্ণ জিতেছিলেন।
