রাজবাড়ী বিসিক এখন গবাদি পশুর চারণভূমি!

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫০ এএম

প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পার করলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রাজবাড়ীর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক)। ৭৭টি প্লটের ওপর ৫৩টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে যাত্রা শুরুর পর এখন মাত্র ১১টি টিকে আছে। বাকিগুলোর অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকটি বন্ধের পথে। বিসিকের পরিত্যক্ত প্লটগুলোতে ঘাস ও আগাছা জন্মেছে। ফলে সেগুলো গবাদি পশুর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

রাজবাড়ী বিসিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজারসংলগ্ন রামকান্তপুর এলাকায় প্রায় ১৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে বিসিক নগরী। এতে ৭৭টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্লটে ৫৩টি শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে চালু আছে। একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে ৯টি। ১৫টি চলে বছরে দু-এক মাস। মামলা জটিলতায় আটকে আছে একটি। বাকিগুলো বন্ধের পথে। এ ছাড়া বিসিক কার্যালয়ে রয়েছে লোকবলের সংকট। আটটি পদের মধ্যে তিনটি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিল্পনগরী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী বিসিক এলাকার মধ্য দিয়ে একটি পাকা সড়ক চলে গেছে। পুরনো একটি দ্বিতল ভবনে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজ চলে। শিল্প এলাকার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে আগাছা জন্মেছে, পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে। কারখানার ভেতরে চরানো হচ্ছে গবাদি পশু। রাস্তাগুলো ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আতাউজ্জামান বলেন, ‘বিসিক নামটি শুনলেই কারখানার শব্দ, শ্রমিকের হট্টগোল, কর্মব্যস্ত পরিবেশের একটি ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে রাজবাড়ীর চিত্র ভিন্ন। এখানে দিন দিন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গরু-ছাগল চরানোর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই গায়ের জোরে প্লট দখল করে রেখেছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। দখলদারদের উচ্ছেদ করে উদ্যোক্তাদের কাছে সহজশর্তে প্লট হস্তান্তর করলে মানুষের কর্মসংস্থান হতো।’

কারখানা মালিকরা জানান, বিসিক এলাকার মধ্য দিয়ে মানুষের চলাচলের রাস্তা থাকায় এখানে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। জমির করের পরিমাণ অনেক গুণ বেড়েছে। তাই খরচে কুলাতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিসিক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে নানা অসুবিধার মধ্যে দিয়ে কাজ করতে হয়। অনেকে ব্যাংকঋণ না পেয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ নতুন করে আসতে চাচ্ছেন না। কারণ করসহ নানা খরচ অতিরিক্ত হারে বাড়ানো হয়েছে। আগে ২০ শতাংশ জমির জন্য বছরে কর দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। এখন ভ্যাট ও আনুষঙ্গিকসহ দিতে হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম খুব খারাপ। নিরাপত্তারও ঘাটতি আছে।’

বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিহাদ বলেন, ‘এখানে অনেকেই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কয়েকটি ধানের চাতাল ছিল। অটো রাইস মিল হওয়ায় সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আবার কেউ কেউ প্লট ভাড়া বা বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করা যায় না। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব প্লট বাতিল বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া আমাদের দপ্তরে জনবলেরও সংকট রয়েছে। আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছি।’

রাজবাড়ী বিসিকের সহকারী ব্যবস্থাপক চয়ন বিশ্বাস বলেন, ‘এখানে বেশ কিছু সমস্যা আছে। সবচেয়ে বড় দুটি সমস্যা হলো নিরাপত্তাপ্রাচীর না থাকা এবং ড্রেনেজব্যবস্থার বেহালদশা। আবার বিসিকের মাঝখান দিয়ে জনসাধারণের যাতায়াত করার জন্য পাকা রাস্তা। অনেকেই এতে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন। এতে করে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালু রাখেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত