খুলনা-মোংলা রুটে ট্রেন চালুতে জট

  • হয়নি জনবল নিয়োগ
  • ফিনিশিং ও চুড়ান্ত পরীক্ষার কাজ বাকি
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম

উদ্বোধনের সাড়ে তিন মাসেও পুরোপুরি শেষ হয়নি খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ কাজ। নিয়োগ হয়নি জনবলও। কবে রেল চালু হবে সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে খুলনা-মোংলা রুটে রেল চালুতে জট দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রেল লাইনে বিভিন্ন ধাপের ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। চুড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শেষ হয়নি। জনবল নিয়োগের বিষয়টিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। এসব কারণেই চালু বিষয়টি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন হয়। জমি অধিগ্রহণ, রেললাইন, রেলসেতু নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় তখন ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এরপর ২০১৫ সালে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এরপর ২০২১ সালে ফের সময় ও ব্যয় বাড়ে। তখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। অন্যদিকে, প্রকল্পের কাজ রূপসা নদীর ওপর ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রেলসেতু, ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার পথ হলেও স্টেশনগুলোর ডাবল লাইন হিসাব করে ৯১ কিলোমিটার রেলপথ, নয়টি প্ল্যাটফর্ম এবং ১০৭টি ছোট সেতু ও ৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে সিগনালিং ও টেলিকমিউনিকেশনের কাজও শেষ হয়েছে। চলছে ফিনিশিংয়ের কাজ।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১লা নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভার্চুয়ালি খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এর আগে ৩০ অক্টোবর ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালানো হয়। এরপর অতিবাহিত হয়েছে সাড়ে তিন মাস। কিন্তু এ রুটে এখনও রেল চলাচল শুরু হয়নি।

এই প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, খুলনা-মোংলা রুটে ইতোমধ্যে সবকাজ শেষ হয়েছে। এখন ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ হলে চূড়ান্ত পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া মতামতের জন্য আগামী সপ্তাহে রেলওয়ের পরিদর্শকের কাছে পরিদর্শনের জন্য আবেদন জানানো হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, লাইন চালুতে দরকার প্রয়োজনীয় জনবল। এই রুটে আটটি স্টেশন ও লাইন ক্লিয়ারিংয়ে ৫৭৬ জন জনবলের অর্গানোগ্রাম  করা হয়েছে। সেটিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগ হবে, নাকি রেলের অন্য অঞ্চল থেকে নেওয়া হবে সেটিও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া স্টেশন আসবাবপত্রও দেওয়া হয়নি। রেলস্টেশন ও রেলক্রসিংগুলোতে নিযুক্ত করা হয়নি কোনো জনবল। এছাড়া রুটে চলাচলকারি রেলের সময়সূচি, ভাড়া ও শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই রেল চলবে।

এদিকে, রেল চলাচল শুরু না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরও এতদিনেও চালু হল না এটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার। কারণ রেল চালু হলে ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর দিয়ে দ্রুত ও কম খরচে মালামাল নিতে পারবে। মোংলার সঙ্গে রেলপথে যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি আরও গতিশীল হবে মোংলা বন্দর। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন বিকাশে আরো সহায়ক হবে এ রুট। এ গুলো থেকে আমরা পিছিয়ে গেলাম। তাই দ্রুত চালুর দাবি জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত