চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ঘেরাওয়ের হুশিয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের 

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০৬ পিএম

মানববন্ধনের পর এবার সংবাদ সম্মেলন করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ইদ্রিস আলী ও শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড সচিব নারায়ন চন্দ্র নাথের স্ত্রী কর্তৃক সাইবার ট্রাইবুনালে দায়ের করা মামলা আবারো প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। আর প্রত্যাহার না করা হলে শিক্ষাবোর্ড ঘেরাওয়ের কর্মসূচী দেয়া হবে বলে হুশিয়ার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট এবং গণ অধিকার চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে একই ইস্যুতে মুক্তিযোদ্ধারা গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমান সচিব প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পুন:নিরীক্ষণ আবেদন ইস্যুতে নারায়ন চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথ প্রথমে থানায় জিডি এবং জিডির চূড়ান্ত রিপোর্টের পর আদালতে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজকে সাথে নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করা হবে। একইসাথে বোর্ড সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ দুর্নীতির আলামত নষ্ট করতে পারেন এমন আশঙ্কা করে মাহফুজুর রহমান দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর আকর্ষণ করেন| নারায়ন চন্দ্র নাথ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির আলামত নষ্ট করতে পারেন মন্তব্য করে মাহফুজুর রহমান আরো বলেন, নারায়ন চন্দ্র নাথকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নিতে শিক্ষামন্ত্রী মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

সংবাদ সম্মেলনে  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ ও জেলা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সরোয়ার কামাল দুলু সংহতি প্রকাশ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, আ হ ম নাসির উদ্দিন, রাজা মিয়া, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হুসাইন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল মো. ইউনুস, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ বাহার, মাস্টার ওবায়দুল্লাহ, খাজা নিজামউদ্দিন, ১১ নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার ডা. শাহ আলম ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আক্তার টুনু, অধ্যাপক নোমান আহমেদ সিদ্দিকী, ইসমাইল কুতুবী, যুবনেতা ইমতিয়াজ আহমেদ, মোরশেদ আলম, জসিমুল হক, সিঞ্জন ভৌমিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ন হয়েছে। কিন্তু বাংলা বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেলেও চতুর্থ বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন নক্ষত্র দেবনাথ। ফলাফল প্রকাশের পর পুন:নিরীক্ষণের আবেদন করতে গেলে নক্ষত্র দেবনাথের পুন:নিরীক্ষণের আবেদন আগেই কে বা কারা করে ফেলেছে বলে জানা যায়। নারায়ন চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথের করা জিডিতে এই ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল। তখন কে বা কারা এই পুন:নিরীক্ষন আবেদন করেছেন তা জানতে গত ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেছিলেন বনশ্রী নাথ।

জিডির প্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায় নগরীর চকবাজার এলাকার চকরিয়া কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পুন:নিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। আর সেই আবেদনে রেফারেন্স নাম্বার হিসেবে ছিল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আলীমের মোবাইল নম্বর। এদিকে রেফারেন্স নাম্বার শিক্ষাবোর্ডের একটি চক্র ব্যবহার করেছে এবং তদন্ত করে বের করতে গত ২৬ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানায় একটি জিডি করেছেন প্রফেসর আবদুল আলীম। আর এই ঘটনায় গত ২৫ জানুযারি বনশ্রী নাথ চট্টগ্রামের সাইবার আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং এতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ থেকে অবসরে যাওয়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর মুহম্মদ ইদ্রিস আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করেন। মুহম্মদ ইদ্রিস মিডিয়ায় বক্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুতে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত