পাকিস্তানে ভোট ‘জালিয়াতি’ ফাঁস করা কর্মকর্তার আত্মসমর্পণ

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫১ এএম

পাকিস্তানে গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর নানা নাটকীয় পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। গত শনিবার রাওয়ালপিন্ডির বেসামরিক কর্মকর্তা লিয়াকত আলি চাত্থা দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ভোট কারচুপিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন, যা নিয়ে দেশটিতে চলছে তুমুল বিতর্ক। গতকাল রবিবার ওই কর্মকর্তা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এখন এ কর্মকর্তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই প্রথম কোনো একজন কমিশনার তার বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিচারিক কমিশন গঠন করা প্রয়োজন এবং উদঘাটিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।’

ব্যারিস্টার গহর আরও বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ইমরান খানের পক্ষে ভোট দিয়েছে। পিটিআই জাতীয় পরিষদের ১৮০টির মতো আসনে জয়লাভ করেছে। প্রকৃত ফলাফলে দল জাতীয় পরিষদের আসনগুলোর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৪২টি, পাঞ্জাবে ১১৫টি এবং সিন্ধুতে ১৬টি এবং বালুচিস্তানে চারটি আসনে জয়লাভ করে।

গত শনিবার রাওয়ালপিন্ডির কমিশনার লিয়াকত আলি চাতা অভিযোগ করেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল জালিয়াতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজা এবং প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার ভূমিকা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গতকাল পিটিআইয়ের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ইমরান খান মনোনীত দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ওমর আইয়ুব খানও বলেন, ‘স্বাধীন বিচারকদের দিয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত এবং রাওয়ালপিন্ডির কমিশনার যাদের নাম নিয়েছেন তাদের তদন্তকারীর ভূমিকায় থাকা উচিত নয়।’

ওই অভিযোগের পর কমিশনার নিজে পুলিশের কাছে ধরা দেন। এখন তিনি পুলিশের হেফাজতে কোথায় রয়েছেন, তা জানা যায়নি। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, ওই কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই; তবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কমিশনার চাত্থার অভিযোগ নিয়ে গতকাল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সংবাদ সম্মেলন করে। দলটির নেতা মালিক আহমাদ খান বলেন, পিটিআই সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিচ্ছে এবং এজন্য দলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লাহোরে পিএমএল-এন নেতা উজমা বুখারি, আতা তারার ও মালিক আহমাদ খান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা বলেন, কমিশনার লিয়াকত আলি চাত্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনো পক্ষই নয়। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা নন কিংবা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাও নন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার কোনো সংশ্রব নেই।

পিএমএল-এন নেতাদের অভিযোগ, গত বছর ৯ মে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশব্যাপী যে সহিংসতা হয়েছিল, তারই পুনরাবৃত্তি করতে পিটিআই চেষ্টা চালাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত