‘তামিমের মাঠে’ প্রথম সেঞ্চুরি তামিমের

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪২ এএম

আগের সন্ধ্যায় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দ্বৈরথের উত্তাপে চাপা পড়ে গিয়েছিল আবু হায়দার রনির দারুণ বোলিং। মঙ্গলবার বিকেলে তেমনটা হতে দেননি তানজিদ হাসান তামিম। বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিতে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের, অন্যদিকে প্রথম ৪ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা খুলনা টাইগার্সই কার্যত ছিটকে গেছে প্লে-অফের দৌড় থেকে।

বিশ্বকাপে তামিম ইকবাল কেন ছিলেন না আর তানজিদ তামিম কেন সব ম্যাচেই খেলেছিলেন, এই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। কাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে তানজিদ তামিমের ৬৫ বলে ১১৬ রানের ইনিংসটা যারা দেখেছেন, তারা এক বাক্যে রায় দেবেন যে অতীতের তামিমকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিভা আছে বর্তমানের। শুরুতেই সতীর্থ মোহাম্মদ ওয়াসিমকে হারানো কিংবা মাঝপথে সৈকত আলীর বিদায় বিচলিত করেনি তামিমকে। নিবিষ্টভাবে করে গেছেন নিজের কাজটা। গ্রুপ পর্বে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের শেষ ম্যাচটা ছিল অনেকটাই নকআউট, হেরে গেলে এখান থেকেই বিদায় নিতে হতো, খেলা হতো না প্লে-অফে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তামিম খেলেছেন ৬৫ বলে ১১৬ রানের ইনিংস যা এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ৮টা করে চার ও ছয়ের মার তামিমের ব্যাটে। নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেরই সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার পথে তামিম তৃতীয় উইকেটে টম ব্রুসের সঙ্গে গড়েছেন ৬১ বলে ১১০ রানের জুটি। বিপিএলে এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রিকেটারটিকেই আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যায়, তবে তামিমের মারকুটে ব্যাটিংয়ের সঙ্গী হয়ে ব্রুসই ছিলেন ধীরস্থির, তার অবদান ২০ বলে ৩১ রান আর ৪১ বলে ৭৮ রান তামিমের। ওয়েইন পারনেলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১১৬ রান করেছেন তামিম, বিপিএলের চলতি আসরের তৃতীয় সেঞ্চুরি এসেছে তার ব্যাটে। দেশের ক্রিকেটারদের ভেতর দ্বিতীয়, অন্যজন তাওহীদ হৃদয়। তামিমের বিদায়ের পর রানটা সেভাবে বাড়েনি চট্টগ্রামের, দুইশোর ওপরে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগলেও ৪ উইকেটে ১৯২ রানেই থামতে হয় চ্যালেঞ্জার্সদের।

এই রানটাই যথেষ্ট হয় চট্টগ্রামের সম্মিলিত বোলিং আক্রমণে। অধিনায়ক শুভাগত হোম ৩ উইকেট নিয়েছেন, জোড়া শিকার বিলাল খানের। বাকি যারা হাত ঘুরিয়েছেন প্রত্যেকেই পেয়েছেন একটি করে উইকেট। তামিম করেছিলেন ১১৬ রান আর খুলনার ১১ জন মিলে করেছেন তার চেয়ে ১১ রান বেশি। ১ বল আগে ১২৭ রানে অলআউট হয়েছে খুলনা, ৬৫ রানের হারে তাদের প্লে-অফের স্বপ্ন কার্যত শেষ। গাণিতিক কিছু সম্ভাবনা টিকে থাকলেও বাস্তবে সামান্যই, অথচ ৪ ম্যাচ পর খুলনাই ছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে তামিম জানিয়েছেন এই সেঞ্চুরি তিনি উৎসর্গ করেছেন তার প্রিয় ভাগনের উদ্দেশ্যে আর মেয়েকে কোলে নিয়ে আসা শুভাগত জানিয়েছেন প্লে-অফে উঠতে পারার আনন্দের কথা। এনামুল হক বিজয় হতাশা জানালেন সময়মতো সুযোগ নিতে না পারার। দল প্লে-অফে না উঠলেও এনামুল হকের আনন্দিত হওয়ারই কথা, বিপিএলের পারফরম্যান্স তাকে ফিরিয়েছে জাতীয় দলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দলে আছেন বিপিএলে ১১ ম্যাচে ২৮৬ রান করা এনামুল, অথচ ৩৮২ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েও নেই তানজিদ তামিম। কারণ এর ভেতর ২৪০ রানই যে তামিম করেছেন দল ঘোষণার পর!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত