স্লুইস গেট আছে, বাঁধ নেই

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম

নেত্রকোণার মদনে বয়রাহালা নদীর মুখে স্লুইস গেট থাকলেও নেই ফসল রক্ষার বাঁধ। এছাড়াও আগাম বন্যার কবল থেকে গণেশ হাওরের ফসল রক্ষার জন্য আটপাড়া উপজেলার চড়পাড়া গ্রামের পাশে নাছিরখালি, মদন পৌর সদরের বাড়িভাদেরা ও বয়রাহালায়সহ তিনটি স্লুইসগেট রয়েছে। কিন্তু বাঁধ নেই।

বাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্ব থাকলেও এসব স্লুইস গেটে বাঁধ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগাম বন্যার কবল থেকে ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় কৃষকরা বিনা পারিশ্রমে প্রতি বছর বয়রাহালা নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করছেন।

নেত্রকোণা পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড জাইকার অর্থায়নে ২০১৯ সালে স্লুইস গেট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০২০ সালে আতাউর রহমান খান লি. নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্লুইসগেট নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করে, যা ২০২১ সালে শেষ হয়।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গণেশ হাওরটি জেলার মদন ও আটপাড়া উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। চার পাশে দুই উপজেলার গ্রাম বেষ্টিত এ হাওরটি। গণেশ হাওরে ৯৭০ হেক্টর বোরো ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে মদনের অংশে ৬৭০ হেক্টর এবং আটপাড়ার অংশে ২০০ হেক্টর।

বুধবার প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, স্লইস গেটটি মদন উপজেলার বয়রাহালা নদীর মুখে নির্মিত হলেও দুপাশে কোন বাঁধ নেই। এটির কর্যকারিতা না থাকায় এর দুদিকে পাশের জমির মালিক হেলাল মিয়া বিভিন্ন ধরনের ফল গাছ লাগিয়েছেন।

মদন উপজেলার হাঁসকুড়ি ও জয়পাশা গ্রামের হেলাল মিয়া ও সুলতু মিয়া বলেন, স্লুইস গেট দিয়েও কোনো লাভ হল না। হাজার হাজার মন ধান হয় গণেশ হাওরে। হাওর রক্ষার জন্য আরও দুটি স্লুইস গেট আছে। বয়রাহালা নদীর মুখে বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর আমরা এলাকার লোকজন উজানে একটি অস্থায়ী বাঁধ দেই। আগাম বন্যার কবল থেকে আমাদের ফসল রক্ষার জন্য বাঁধটা একান্ত জরুরি।

আটপাড়া উপজেলার চড়পাড়া ও মধুয়াখালি গ্রামের কৃষক নুরুল্লাহ ও স্বমেরন্দ্র পাল বলেন, গণেশ হাওরের চতুরদিকে গ্রাম রয়েছে। এক সময় আগাম বন্যায় নাছিরখালি খাল দিয়ে পানি ঢুকে ফসল ডুবে যেত। এ খালে স্লুইসগেট হয়েছে কিন্তু বয়রাহালা স্লইসগেট হলেও বাঁধ না হওয়ায় আমরা আতঙ্কে থাকি। বাঁধ নির্মাণ হলে আমাদের ফসলহানির ভয় থাকতো না। 

মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাফায়াত উল্লাহ রয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গণেশ হাওরে ফসল রক্ষার জন্য আটপাড়া অংশে একটি ও মদন অংশে দুটি স্লুইস গেট রয়েছে। মদনের বয়রাহালা নদীর মুখে স্লুইস গেট আছে কিন্তু বাঁধ নেই। বাঁধ না থাকায় অযত্নে ও অবহেলায় স্লুইস গেটটিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর উজানে বাঁধ দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের কাছে দাবি জনাচ্ছি তারা যেন বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পোল্ডার ছাড়া বাঁধ নির্মাণ করা যায় না। আর বাঁধটা কোথায় সেটা আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখবো। আমি আসার আগে হয়তো স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত