জনসমক্ষে গুলি করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করল তালেবান

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪২ এএম

আফগানিস্তানের শাসক তালেবান প্রকাশ্যে গুলি করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে। গত বৃহস্পতিবার আলাদা ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনের দন্ড কার্যকর করা হয়। তালিবানের আদালত জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গজনির একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে বন্দুকের গুলিতে তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

গজনির ওই স্টেডিয়ামে দন্ড কার্যকরের সময় বিপুলসংখ্যক তালেবান কর্তৃক তৈরিকৃত বিচার বিভাগ এবং সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি ওই দন্ড দেখার জন্য স্থানীয় মানুষও হাজির হন। সবাই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার এই প্রক্রিয়া সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ঘটনা দেখতে আসা কাউকেই মুঠোফোন কিংবা ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

তালেবানের আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুজন ব্যক্তির বিচার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দুজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা মৃত্যুদন্ডাদেশ অনুমোদন দিয়েছেন এবং এর পরই এই বিচারিক আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।’

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ইসলামি আইনের ধারাগুলো ক্রমে ক্রমে বলবৎ করছে। এরই মধ্যে নারীদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তারা প্রশাসনেরও নতুন নিয়ম চালু করেছে। তাদের শরিয়াহ শৃঙ্খলা অনুযাযী বিচার বিভাগের কাজ চলছে। সেই মোতাবেক শত শত দর্শকের সামনে চারজনকে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পাশাপাশি নারীসহ প্রায় ৩৫০ জনকে বেত্রাঘাত করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী নারীদের বেশিররভাগের বিরুদ্ধে ব্যভিচার এবং বাড়ি থেকে পালানোর মতো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবারের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘সমস্ত শরিয়া মানদন্ড বিবেচনায় নিয়ে আদালতের আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে।’ জাতিসংঘ এই শাস্তিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) এই ঘটনাকে মানুষের জীবনের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে।

তালেলবান অবশ্য বলছে, তাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা এবং প্রশাসন ইসলামি বিধি-বিধান ও নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত