নতুন পরিকল্পনা

যুদ্ধের পরেও গাজার নিয়ন্ত্রণ চায় নেতানিয়াহু

  • গাজাতে যে কোনো সময় ইসরায়েলি সেনাদের হামলা চালানোর অধিকার থাকবে বলে প্রস্তাব করেছেন নেতানিয়াহু
  • জর্ডানের পশ্চিমাঞ্চলের স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রসহ পুরোটির নিয়ন্ত্রণও চায় ইসরায়েল
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫৪ পিএম

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার যুদ্ধপরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত নথি (২২ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাছে উত্থাপন করেছেন তিনি।

শনিবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি ও টাইমস অব ইসরায়েল।

নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় রয়েছে, যতদিন পর্যন্ত হামাস ও ইসলামিক জিহাদ নির্মূল না হবে এবং সব জিম্মিকে ফিরিয়ে না আনা যাবে, ততদিন পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধ চলবে। লক্ষ্য অর্জন হলে একটি "অসামরিক" গাজা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এছাড়া উপত্যকাটির শৃঙ্খলার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক সক্ষমতা অপসারণ করতে পারবে ইসরায়েল। অর্থাৎ গাজাকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে। এমনকি, নিরাপত্তার স্বার্থে গাজার শাসকদের যে পরিমাণ অস্ত্রের প্রয়োজন সেটিও রাখা হবে না।

এতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ‘কথিত মৌলবাদ’ দূরীকরণে সব ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে একটি পোগ্রাম পরিচালনা করবে। এতে যুক্ত থাকবে আরব দেশগুলো। গাজাতে যেন কোনো ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঠেকাতে যে কোনো সময় ইসরায়েলি সেনাদের সেখানে হামলা চালানোর অধিকার থাকবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, মিশরের সাথে গাজা ভূখণ্ডের সীমান্তে মাটির নিচে এবং মাটির নিচে চোরাচালান রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসরায়েলের হাতে। এছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে যেন কোনো ধরনের হামলা না চালানো যায় সেজন্য জর্ডানের পশ্চিমাঞ্চলের স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রসহ পুরোটির নিয়ন্ত্রণও থাকবে ইসরায়েলের হাতে।

পরিকল্পনায় বলা হয়, যুদ্ধ শেষে গাজা পরিচালিত হবে ‘স্থানীয় কর্মকর্তাদের’ দ্বারা। যাদের সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী দেশ ও গোষ্ঠীর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে (পিএ) এতে রাখা হবে কি না সে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি এই পরিকল্পনায়।

তবে নেতানিয়াহুর যুদ্ধপরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে ও এর মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ বলেন, "বিশ্ব যদি সত্যিই ফিলিস্তিনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায় তাহলে অবশ্যই ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত