মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কী কাজ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা?

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৭ এএম

সংসদে আইনপ্রণেতা হিসেবে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মতো সমান অধিকার থাকে একজন সংরক্ষিত আসনের সদস্যের। একজন সংরক্ষিত আসনের সদস্যকে সর্বোচ্চ দুটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে একটি জেলারও দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একটি নির্বাচনী আসনে জনগণের ভোটে বিজয়ী সদস্যদের পাশাপাশি ওই এলাকার জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন ইস্যু সংসদে উপস্থাপন করার অধিকার রাখেন।

সংসদে এবারে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংরক্ষিত আসনের এমপি প্রার্থী সানজিদা খানম বলেন, ‘সাধারণ মানুষেরা মনে করে মহিলা এমপিদের কাজ নাই। তাদের কাজ আছে, নাই যে এমন না। তবে উন্নয়ন কাজে সংরক্ষিত এমপিদের অংশগ্রহণ সাধারণ আসনের কাছাকাছি বাড়ানো প্রয়োজন।’

আইন প্রণয়ন ছাড়া সংরক্ষিত আসনের কাজের পরিধি যে খুব বেশি সেটি মনে করছেন না রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন আর সংসদে কথা বলা ছাড়া খুব বেশি ভুমিকা রাখতে পারেন না। সুতারং যদি কেউ বলে উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারে সেটি খুব একটা সঠিক বলে আমার কাছে মনে হয় নাা।

স্থানীয় সরকার বিশ্লেষক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা মূলত আইন বিভাগের লোক। দৃশত এলাকায় তাদের কোন কাজ নেই। তারা যা দেখবে সেটা সরকারের কাছে, সংসদের কাছে বলবে। তারা শুধু ডিও লেটার দিতে পারবে কিংবা সংসদে মন্ত্রীকে বলতে পারে।’

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের মাপকাঠি কী?

সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন এমন তিনজনকে এবার সংরক্ষিত নারী আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের মধ্যে একজন সাধারণ আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছে।

সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিকে সংরক্ষিত আসনে এমপি পদে এবার মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দ্বাদশ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন মেহের আফরোজ চুমকি। কিন্তু এই নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীক পেয়েও জিততে পারেন নি। ঢাকা-৪ আসনে সানজিদা খানমও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে।

এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে সংরক্ষিত আসনে কাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে কিংবা যোগ্যতা কি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সানজিদা খানম বলেন, ‘মনোনয়ন দেন দলীয় প্রধান। যারা দলের ত্যাগী কর্মী, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করছেন এমন কাউকেই তিনি মনোনীত করেন সংরক্ষিত আসনে।’

মাপকাঠি কী শুধুই দলীয় ত্যাগ— প্রশ্নের জবাবে সানজিদা খানম বলেন, ‘মাপকাঠি একেকজনের কাছে একেকরকম। তবে আওয়ামী লীগে ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়।’

গত সংসদে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৪৩টি। এর মধ্যে খাদিজাতুল আনোয়ার, রুমানা আলী, সুলতানা নাদিরা ও তাহমিনা বেগম এবার সরাসরি আসনে জয়ী হয়েছেন।

আগে পেলেও এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি সাবিনা আক্তার তুহিন। তিনি বলেন, ‘কালো টাকার প্রভাব পিছিয়ে যায় অনেক নারী। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতিতে জড়িত, শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়া উচিত। যারা দীর্ঘদিন পরীক্ষিত। একজন নারী এমপি যখন হয় তখন একটু কাজ করার সুযোগ পায়।’

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আমরা দেখি কমিটমেন্ট। দলের প্রতি যাদের কমিটমেন্ট থাকে, তাদের যদি পারিবারিক পরিচয়ও থাকে সেটা তো দোষের কিছু না।’

জাতীয় পার্টি থেকে এবার যে দুজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তারা এবার সাধারণ আসনে নির্বাচন করেও জিততে পারেনি। ঢাকা-১ আসন থেকে পরাজিত সালমা ইসলাম এবং ঠাকুরগাও-২ আসন থেকে পরাজিত নুরুন নাহার বেগম।

দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিও অনেকটা আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমরা নারী আসনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে দেখার চেষ্টা করি তিনি কবে থেকে দল করে। পোড় খাওয়া কর্মী কি না, পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ আছে কী না। এগুলো দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার।’

রাজনীতিবিদদের এই মতের সাথে ভিন্নতা আছে বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে এখন সবচেয়ে বড় যোগ্যতা পারিবারিক পরিচয়। সে কারণে মাঠের রাজনীতির সাথে জড়িতরা নারীরা অনেক সময় বড় পরিচয় না থাকলে পিছিয়ে পড়েন।

বিশ্লেষক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি পারিবারিক পরিচয়। বড় নেতার আত্নীয় স্বজন, মেয়ে-পুত্রবধু কিংবা স্ত্রী না হলে নমিনেশন পাওয়া কঠিন। এ কারণে অনেক নারী বঞ্চিতও হন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত