টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক সংস্কারের চলমান একটি কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান টগর নামের এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান টগর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পৌর যুবলীগের সভাপতি। সংস্কার কাজটি বন্ধ থাকায় যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ওই সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ।
দায়িত্বরত অফিস কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয়রা চলমান কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার দাবি কাজের মান খুবই নিম্ন। কাজটি দ্রুত শেষ করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, সম্প্রতি প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খানপাড়া হতে গোপালপুর খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক রিপেয়ারিং ও কার্পেটিং দ্বারা সংস্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কাজটি পায় হাসান টেকনো প্রাইভেট লি. ও আমিনুল হক প্রাইভেট লি. (জেভি)। কাজের তদারকি সাইড অফিস কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়মতান্ত্রিকভাবে তারা কাজটি পেয়েছে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কাজের রিপেয়ানিং শুরু হয়। রিপেয়ারিং শেষে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় কার্পেটিংয়ের কাজ। বর্তমানে কাজের প্রায় তিন ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি গোপালপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি কাজ করতে বাঁধা ও মারধর করাসহ কাজের গাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেন। ২২ তারিখ বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করতে না পারলেও ২৩ তারিখ আবার কাজ শুরু হয়। সেদিন ৬/৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ওই যুবলীগ সভাপতি আবার কাজটি বন্ধ করে দেন। এর ফলে ২৪, ২৫ ও ২৬ তারিখ কাজ বন্ধ রয়েছে।
চলমান কাজের শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন বলেন, ওই সভাপতি কাজ বন্ধ না রাখলে আমাদের মারধর করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি যেখানে যাই সেখানে কেউ হতাহত হয়নি এমনটা হয়নি। এবারই প্রথম, তাই সাবধান হয়ে যা।
কাজের তদারকিকারী সাইড ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কাজটি নিম্নমানের হচ্ছে বলে অভিযোগ দেন গোপালপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি টগর ভাই। এ কারণে কাজটি বন্ধ করে দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাজটি দেখভাল করছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন প্রকৌশলী। তার উপস্থিতিতে কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ করা সম্ভব নয়। এরপরও জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নেতাদের ভয়ে কাজ থেকে অনেক শ্রমিক চলেও গেছে।
মির্জাপুর বাজার এলাকার জুলহাস, ফিরোজ, করিমসহ একাধিক গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে হয়েছে আমাদের। তখন কোনো নেতা দেখি নাই। এখন কাজটি শুরু হওয়ায় এটি দেখভালের জন্য অনেক নেতা বের হইছে। অফিসের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সুন্দরভাবে কাজটি হচ্ছে। কাজটি ভালো না মন্দ হচ্ছে সেটি বলতে পারবেন ওই কর্মকর্তা। নেতা কাজের ভালো মন্দ কি বুঝবেন। মন্দ কাজের জন্য নাকি অন্য কোনো ধান্দায় কাজটি বন্ধ করা হয়েছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
হাসান টেকনো প্রাইভেট লি. ও আমিনুল হক প্রাইভেট লি. (জেভি)’র ঠিকাদার প্রতিনিধি সোহেল রানা জনি বলেন, নিম্নমানের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া কাজের তদারকি করছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন প্রকৌশলী।
তিনি বলেন, কাজটি জোরপূর্বক বন্ধ করার পরপরই আমি গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করি। তিনি থানা থেকে একজন এসআইকে পাঠিয়ে দেওয়ার পর আবার কাজটি চালু করা হয়। এরপরও ওই নেতা আবার এসে আমার শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাক্কলন অনুযায়ীই কাজটি হচ্ছে। সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই ওই নেতা কাজটি বন্ধ করেছেন। কাজ বন্ধের জন্যও তিনি লিখিত অভিযোগ করেননি। আগামীকাল থেকে কাজটি আবার চালু করা হবে।
অভিযুক্ত গোপালপুর উপজেলা পৌর যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান টগর বলেন, কাজটি নিম্নমানের হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ দেওয়ায় কাজটি বন্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিস কর্তৃপক্ষকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
মেহেদী হাসান টগর গোপালপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লব। তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যদি সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, কাজটি বন্ধ করার অভিযোগ পেয়েই থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহ. আলিউল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
