ঋণের চাপ সইতে না পেরে দুই শিশুসহ মায়ের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:২০ এএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ঋণের চাপ সইতে না পেরে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা দাবি উঠেছে। রবিবার সকালে যেকোনো সময় জেলার সিরাজদীখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের উত্তর ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বসতঘর থেকে মা ও দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতরা হচ্ছে, মা সায়মা বেগম (৩৩), তার মেয়ে ছাইমুনা আক্তার (১১) ও ছেলে তাওহীদ হোসেন (৭)। নিহত সায়মা বেগমের স্বামী আলী মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী। পুলিশ ধারণা করছে, প্রথমে দুই সন্তানকে বিষপানে মৃত্যু নিশ্চিত করে মা। পরে মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। নিহতের মেয়ে ছাইমুনা কেরানীগঞ্জের চর সোনাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ও ছেলে তাওহীদ একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।

গৃহবধূ সালমা বেগমের জা রোজিনা আক্তার দাবি করে বলেন, ঋণের চাপ সইতে না পেরে ছেলে মেয়েকে বিষ দিয়ে হত্যা করে মা সালমা বেগম গলায় রশি পেঁচিয়ে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরও জানান, সালমা বেগম বিভিন্ন এনজিও থেকে সুদে টাকা নিয়ে ঋণগ্রস্ত ছিল। ওই ঋণের কিস্তির টাকা নিতে রবিবার সকাল ৯টার দিকে এনজিওর দুইজন লোক বাড়িতে এসেছিল। তারা ঘরের দরজা বন্ধ দেখে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর জানালা দিয়ে দেখি, সালমা বেগম ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে আর দুই শিশু সন্তান খাটের ওপর পড়ে আছে। নিহতের জা রোজিনা আক্তার আরও বলেন, সালমা বেগম পপি, এসএস, পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও শক্তিসহ বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলও।

সিরাজদীখান থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৭ বছর আগে সালমা বেগমের স্বামী আলী মিয়া ৮ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরব যান। সেই ঋণের টাকা কয়েক বছরে আরও বেড়ে যায়। সেই ঋণের চাপ সইতে না পেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজদীখান সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সিরাজদীখান থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত