শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়ন থেকে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. সাগর মাদবর ও তার লোকজন। এঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
বুধবার সন্ধ্যায় বড় গোপালপুর ইউনিয়নের সূর্যমনী বাজারে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাজিরা থানায় যুবলীগ নেতা সাগর মাদবরসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন এএসআই বেলাল হোসেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন জাজিরা থানার এএসআই বেলাল হোসেন, পুলিশ সদস্য জোহান, সবুজ খান ও ফারুক হোসেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
জাজিরা থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় গোপালপুর ইউনিয়নের সূর্যমনী বাজারের পূর্ব পাশের পাশের বালুর মাঠ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আরিফ মাদবর ও সবুজ মাদবরকে আটক করে জাজিরা থানার এএসআই বেলাল হোসেন, পুলিশ সদস্য জোহান, সবুজ, ফারুক। পরে আসামিদের সূর্যমনী বাজারে দিকে নিলে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. সাগর মাদবর, তার সহযোগী রাজিব মাদবর, রশিদ আকন, রহিম মাদবর, সাথী আক্তারসহ ১৫/২০ জনের একটি দল পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
এসময় ফেসবুক লাইভে এসে যুবলীগ নেতা সাগর মাদবর বলেন, আমি গোপালপুর বাজার থেকে বলছি। আমি বড় গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও বাজার কমিটির সেক্রেটারি। থানার কিছু অসাধু দারোগার কারণে আমাদের বড় গোপালপুরের মানুষ অতিষ্ঠ। তারা সিভিল ড্রেসে এসে সাধারণ মানুষকে বলে তোরা ইয়াবা ও মাদক বিক্রি করস, এ কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায়। যারা মাদক ব্যবসায়ী তাদের আটক করে না।
বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার বলেন, পুলিশ যাদের আটক করেছিল তারা মাদক, চুরিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। তাদের পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়াটা অন্যায়। যারা এই অন্যায়ে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আমাদের চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এঘটনায় জড়িত সাতজনের নাম উল্লেখ করে ১৫/২০ জনকে আসামি করে আমরা একটি মামলা করেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত।
