দেবরকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা, গৃহবধূর ১০ বছরের জেল

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:১৮ পিএম

চট্টগ্রামে ১২ বছর আগে চার বছর বয়সী শিশুকে বৈদ্যুতিক শক ও গলা টিপে হত্যার দায়ে ইয়াছমিন আক্তার নামে এক নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন। দণ্ডিত আসামি সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ কাঞ্চনার মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী।

জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, শাশুড়ির চার বছর বয়সী সন্তানকে খুনের দায়ে পুত্রবধূকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আরেক আসামি দণ্ডিত নারীর মা বেবী আক্তারকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামি ইয়াসমিন আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর বিকালে শাশুড়ি আয়েশা বেগম তার ৪ বছরের শিশু রাশেদুল শিকদার তামিমকে পুত্রবধূর কাছে রেখে কাজে যান। তামিম খেতে চাইলে তাকে এক কাপ দুধ দেন ইয়াছমিন। পরে আরও এক কাপ দুধ খেতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে প্রথমে তামিমকে আঘাত করেন। পরে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে ও গলা টিপে তামিমকে খুন করেন তিনি।

একপর্যায়ে বস্তাবন্দি করে তামিমের লাশ রেখে দেন বাড়ির মাচায়। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। পরে শাশুড়ি আয়েশা এসে তার ছেলে কোথায় জানতে চাইলে কিছু জানেন না বলে জানান ইয়াছমিন। ছেলেকে না পেয়ে ৭ নভেম্বর সকালে সাতকানিয়া থানায় নিঁখোজ ডায়েরি করেন আয়েশা বেগম। একইদিন বিকালে পচা গন্ধ পেয়ে ও বাড়ির মাচার ওপর থেকে রক্তের ফোঁটা পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তামিমের বস্তাবন্দি লাশ খুঁজে পায় তার পরিবার।

এরপর ইয়াছমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তামিমকে খুনের কথা স্বীকার করেন। ৮ নভেম্বর ইয়াছমিন ও তার মা বেবী আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন আয়েশা। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত