বিভিন্ন সময় ভারতে গিয়ে আটকে পড়া ১০ বাংলাদেশী নাগরিক দেশে ফিরছেন। শনিবার দুপুরে আখাউড়া-আগরতলা ইমিগ্রেশন সীমান্তের শূন্য রেখায় ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তীর নিকট হস্তান্তর করেন। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশুসহ একজন নবজাতক রয়েছে। এরমধ্যে একই পরিবারের ৫ জন রয়েছে। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করেছেন।
আগরতলাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের তথ্য ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পারবিষ্ণুপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে মো. আহাদ মিনা ও মো. আল আমিন মিনা, মো. আল আমিন মিনার স্ত্রী মোছা. কুলছুল বেগম, আল আমিন মিনার ছেলে রিফাত মিনা, সিফাত মিনা, একই গ্রামের আসাদ মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ মোল্লা, মুজিবুর শেখের ছেলে মো. রাজু শেখ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলার চানপাড়া গ্রামের মো. কদর আলীর মেয়ে মোছা. সাজিদা খাতুন, আবুল কাসেমের মেয়ের সুমি আক্তার কাজলী ও কাজলীর নব জাতক পুত্র শিশু সানজিদ মোল্লা।
পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, ভালো কাজের প্রলোভনে দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে সীমান্তপথে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। পরে দালালরা তাদের সেখানে ফেলে চলে আসে। এরপর ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে তাদের আটক করে জেল হাজতে পাঠায়।
সীমান্তের শূন্য রেখায় শিরিনা বেগম বলেন, আমার পরিবারের ৫ জন দুই বছর আগে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়ে আটকা পড়ে। এরমধ্যে ২ ছেলে, এক ছেলের বউ, ২ নাতি রয়েছে। দীর্ঘ ২ বছর পর তাদেরকে ফেরত পেয়ে আমার ভালো লাগছে। আমি যেন তাদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি সেই কামনা করি।
এ ব্যাপারে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কনসুলার অফিসার মো. ওমর ফারুক বলেন, বাংলাদেশি এসব নাগরিকরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে সাজা ভোগ করেছেন। ত্রিপুরার নরসিংগড়ে একটি ডিটেনশন সেন্টারে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা সেখানে গিয়ে খোঁজ খবর নিই। তাদের নাম ঠিকানা বাংলাদেশে পাঠাই। দুই দেশের প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলো।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কনসুলার অফিসার মো. ইলিয়াস উদ্দিন, মো. ওমর শরীফ, বিএসএফ ত্রিপুরাস্থ ডেপুটি কমান্ড রাম নরেশ সিং, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ হাসান আহমেদ ভূঁইয়া, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা দেওয়ান মোর্শেদুল হক প্রমুখ।
