জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পানি সরবরাহের একমাত্র গভীর নলকূপটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিষয়ে খেয়াল নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রেজিস্ট্রার ভবনের পিছনে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর প্রথমদিকে গভীর এ নলকূপটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ এই সময়ে বেশ কয়েকবার নলকূপটি মেরামত করা হলেও বিগত একবছর যাবত তা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তৃষ্ণা নিবারণ করছে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি দিয়ে।
একমাত্র নলকূপটি বিকল হয়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি থেকে রিজার্ভ ট্যাঙ্কে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে ওয়াসা থেকে সরবরাহকৃত পানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে ব্যাপক পানি সংকট দেখা দেয়। এতে করে ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগ এমনকি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতেও অনেক সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে।
এদিকে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় সেই পানি ফিল্টারিং মেশিনে ফিল্টার হবার পরেও গন্ধ থেকে যাচ্ছে। এছাড়াও ওয়াসার পানি কতটুকু বিশুদ্ধ তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়াসার পানি ফিল্টার করার পরেও গন্ধের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াও অনেকাংশে রয়ে যাচ্ছে।এসব পানি পান করলে শিক্ষার্থীরা পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এই সঙ্কট দ্রুত সমাধান না করলে দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত হল সুবিধা না থাকায় পুরান ঢাকায় ক্যাম্পাসের আশেপাশে মেসে থেকে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এদের একজন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের হল না থাকায় আমাদের পুরান ঢাকার মেসে থাকতে হয়। আর এখানে কয়েকটি সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এজন্য ক্যাম্পাস থেকেই বাসার জন্য পানি নিয়ে যাই। ক্যাম্পাস থেকে পানি নিতে গেলে প্রায়ই লক্ষ্য করি পানিতে দুর্গন্ধ থাকে।পরবর্তীতে জানতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নলকূপটি নষ্ট, সরাসরি ওয়াসার পানি ফিল্টার করা হচ্ছে। দ্রুতই নলকূপ সংস্কারের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মিজান উদ্দীন মাসুদ জানান, কিছুদিন আগেই আমি পানি বাহিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াসার পানি পান করার জন্যই এমনটা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিমাত্র নলকূপ, সেটাও একবছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। প্রশাসন দ্রুত এটি মেরামত করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নওশিন বলেন, পুরান ঢাকার পানির অবস্থা বাজে। এজন্য ক্যাম্পাস থেকে মেসে পানি নিতে হয়। আর এখন ক্যাম্পাসের পানির অবস্থাও বাজে। উপরন্তু এখন তো ক্যাম্পাসে পানিই থাকে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী জানান, ক্যাম্পাসের ভবনগুলোর পেছনে অনেক কর্মচারী পরিবারসহ বসবাস করে। রমজানে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে সেহরি আর ইফতারের সময় প্রচুর সমস্যা হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, নলকূপ সংস্কারের জন্য টেন্ডার ও ড্রপিং হয়ে গেছে। অনুমোদনের কাজও প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যেই অনুমোদন হয়ে যাবে। রমজানে অনেক পানির প্রয়োজন হয়। এজন্য আমরা রমজান শুরুর আগেই কাজটা শেষ করার চেষ্টা করছি।
