প্রথম জাতীয় মিষ্টি মেলা শুরু, চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩০ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নিয়ে বুধবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে প্রথমবারের মতো জাতীয় মিষ্টি মেলা। ৫ দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। খাদ্য সংস্কৃতি হিসেবে দেশের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিগুলো সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই ভিন্নধর্মী এ আয়োজন। এতে অংশ নিয়েছেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত ৬৪-এর অধিক মিষ্টি শিল্পীরা।

আজ সকাল ১১টায় মিষ্টি মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান;খলিল আহমেদ সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন লিয়াকত আলী লাকী, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, শুধু প্রদর্শনীর জন্য নয়, কেউ চাইলে ৬৪ জেলার বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খেতে পারবে। আমাদের লক্ষ্যে এবং উদ্দেশ্যটা হলো, আমরা গর্ব এবং গৌরবের বিষয়গুলো আবিষ্কার করতে চাই এবং তার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চাই। আমরা জানি নেতিবাচক অনেক কিছু এ দেশ সম্পর্কে প্রচারিত হয়, এ জন্য আমরা প্রতি বছরই একটি কর্মসূচি পালন করি। শিল্পের শহর পঞ্চগড় থেকে শুরু করে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রত্যেকটি শহরের নিজস্ব ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস ঐতিহ্যের ইতিবাচকতা তুলে ধরতে চাই। 

তিনি আরো বলেন, এই মেলার মাধ্যমে যে শিল্পীরা মিষ্টি তৈরি করেন তাদের চিহ্নিত করা ও শ্রদ্ধা জানানো অন্যতম কাজ বলে আমরা মনে করি। আমাদের অনেক মিষ্টি জিআই হয়েছে। আরো যে সব মিষ্টি জিআই হওয়া উচিত তা নিয়ে আমরা কাজ করব। আশা করব  মেলাটি সাফল্যমণ্ডিত হবে এবং প্রতি বছরই আমরা এ মেলার আয়োজন করবো।

মহাপরিচালক বলেন, আমি মনে করি এ সকল কিছুই আমাদের আন্দোলনের অংশ। এ আন্দোলন হলো আমাদের দেশকে নিয়ে, আমার জাতিকে নিয়ে, ইতিহাস ঐতিহ্যেকে নিয়ে। আমাদের শিল্পী, কবি, সাহিত্যেকরা, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সকলেরই উচিত দেশের গর্ব এবং গৌরবের জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করা এবং যাকে আমরা বলতে চাই গণজাগরণের শিল্প আন্দোলন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ভিন্ন ধর্মী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান আলোচক বক্তারা। আলোচনা পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় সমবেত সংগীত ‘আমরা নতুন যৌবনের দূত’ এবং ‘আমরা সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী’। পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু সংগীতদল, যার কথা লিখেছেন মাসুদ সালাহউদ্দীন এবং সুর করেছেন লিয়াকত আলী লাকী। এরপর পরিবেশিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষিত অ্যাক্রোবেটিক দলের পরিবেশনা ব্যারেল ব্যালেন্স, রোলার ব্যালেন্স এবং টপটু আমব্রেলা।

এছাড়াও বিকেলের লোক-সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সংগীত পরিবেশন করেন তারকা শিল্পী শাহনাজ বেলী, আয়শা জাবীন দিপা, খায়রুল ওয়াসী, ফারহানা পারভীন। এছাড়াও ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী শারমীন জাহান কেয়া, রোকসান আক্তার রূপসা, রাফি তালুকদার, জীবন চৌধুরী, প্রেমা জামান মীম এবং বিপাশা পারভীন।

প্রথম জাতীয় মিষ্টি মেলা চলবে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় প্রতিদিন বিকাল ৫টায় থাকবে লোক-সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত