ভারতে এক নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগে অনেক প্রশ্ন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩৫ পিএম

ভারতের নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েল পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে গত শনিবার তিনি পদত্যাগ করেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু গোয়েলের পদত্যাগপত্র গ্রহণও করেছেন। কিন্তু ভোটের আয়োজনের কয়েক দিন আগে তিনি এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন সেটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে তার পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টা পরেও সঠিক কারণ এখনো অজানা।

গতকাল রবিবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, অরুণ গোয়েল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ না করতে বলা হয়েছিল।

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেক দিন থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজিব কুমারের সঙ্গে কিছু বিষয়ে বিরোধ চলছিল গোয়েলের। এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন তিনি। তার পদত্যাগের পর অনেকে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সূত্রটি জানিয়েছে, গোয়েলের শরীর পুরোপুরি ঠিক আছে।

ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনে তিনজন সদস্য থাকেন। একজন প্রধান কমিশনার ও দুজন শুধু কমিশনার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন অনুপ পান্ডে। এখন অরুণ গোয়েল পদত্যাগ করার ফলে এখন শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজিব কুমারই প্যানেল সদস্য হিসেবে থাকলেন।

আগামী বছরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারপর অরুণ গোয়েলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার কথা ছিল। অবসরপ্রাপ্ত আমলা অরুণ গোয়েল পাঞ্জাব ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা (আইএএস) কর্মকর্তা ছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি নির্বাচন কমিশনে যোগ দেন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভোটের আগে কমিশনের শূন্য পদ পূরণ করতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে তড়িঘড়ি উদ্যোগী হতে হবে। আর সেই নিযুক্তিও হবে একটু ভিন্ন। সাধারণত দেশটিতে নির্বাচন কমিশনারের নিযুক্তি করতেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। তবে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে অংশগ্রহণের দাবি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন অব্যাহত। সেই অমীমাংসিত রেষারেষির দরুন প্রধান বিচারপতিকে ওই দায়িত্ব থেকে সরকার অব্যাহতি দিয়েছে। নতুন আইনে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যকে নিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোনো এক শীর্ষ সদস্য। নতুন আইনে নতুন নিযুক্তি এবারই প্রথম হবে। তবে সেজন্য সরকারের হাতে সময় আছে খুবই কম।

অরুণ গোয়েলের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে সরব হয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নাম পরিবর্তন করে ‘নির্বাচন অমিশন (অপসারণ)’ রাখা উচিত। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে লোকসভা নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হবে, কিন্তু এখন ভারতে মাত্র একজন নির্বাচন কমিশনার আছেন। কেন?

কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের ক্ষমতা কার্যকরভাবে ক্ষমতাসীন দল ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকলেও, কেন মেয়াদ শেষ হওয়ার ২৩ দিন পরও নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি? মোদি সরকারকে এই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল বলেছেন, মূল নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর ওপর সরকারের প্রভাব রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত