গ্যাসসংকটের কারণে চলতি মার্চ মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা বিভ্রাট হতে পারে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি বড় সমস্যা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করতাম। একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে থাকায় গ্যাস সরবরাহ ১০ শতাংশ কমে গেছে। সার্ভিসিংয়ে থাকা এফএসআরইউ ৩০ মার্চের আগে আসবে না। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদিত গ্যাসও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে ফলে গ্যাসের সরবরাহ মার্চের মধ্যে বাড়বে না। সবমিলে কিছুটা সংকট রয়ে গেছে। তারপরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
গতকাল বুধবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ -সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেচ মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। এজন্য আমরা নতুন টাইম শিডিউল ঠিক করেছি, রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সেচপাম্প চালু থাকবে। এটি আরও বাড়ানো যায় কি না ভাবা হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলো ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, যা আগে ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
অবশ্য গত মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এক দিন পরই সেটা আবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হলো।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মূলত এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে, মানুষ রান্না করতে পারছে না এমন প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ‘যেসব এলাকায় গ্যাসের সমস্যা, আমি অনুরোধ করব তারা বিকল্প হিসেবে যেন এলপিজি ব্যবহার করেন।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর মার্কেট বা শিল্পে বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহারের আগের মতো কোনো নির্দেশনা নেই। শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো চলবে। আর মার্কেটও আগের মতো নির্দেশনায় চলবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে মহাসড়কে যাত্রীসাধারণের যাতায়াতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য জ্বালানি সরবরাহের সুবিধার্থে ৭ থেকে ১৮ এপ্রিল সিএনজি স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১৯ এপ্রিল থেকে আবার আগের মতো সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব নুরুল আলম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার, পিডিবির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
