ক্লোজআপ ওয়ান : তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশে নামের রিয়েলিটি শো দিয়ে সারা দেশ ও বাংলাভাষীরা সাজুকে চেনেন। লোকগানের জন্য সাজুর কণ্ঠকে আপন করে নেন এ দেশের মানুষ। এখন পর্যন্ত তার একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে দশটি। আছে বেশ কিছু মিশ্র অ্যালবামও। রাজনীতিতেও আগ্রহ রয়েছে সাজুর। এই গায়কের সঙ্গে সংগীত ও সংগীতের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন
সুরের মধ্যেই ঘোরাফেরা
আমার পূর্বপুরুষ গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে নির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না কোন পুরুষ। জন্মের পর থেকেই আমার মধ্যে সুর এসেছে। সেই সুরের মধ্য দিয়ে চলছি। একটা সময় আমার পরিবার চাইত না গান করি। নিষেধ ছিল। খুব গোপনে গিয়ে উলিপুরে সংগীত একাডেমিতে ভর্তি হলাম। কিন্তু আব্বা জেনে গেল বিষয়টা। গান বন্ধ। কিন্তু আমি গান সেখানে যেটা শিখেছিলাম, সেটাই গাইলাম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে। উপজেলা, জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে গোল্ড মেডেল পেলাম। এরপর আমার বাবা বুঝলেন আমাকে দিয়ে গান ছাড়া কিছু হবে না। সেই সুর চলছে।
যে ভালোবাসা শোধ হবে না
একজীবনে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এই ভালোবাসা আমাকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। দেশের মানুষ আমাকে কী পরিমাণ ভালোবাসে আমি টের পেয়েছি ২০০৮ সালে। ক্লোজআপ ওয়ানের জন্য মানুষ আমাকে গভীর ভালোবাসা দিয়েছে। আমার নিজ জেলা কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে কী পরিমাণ কৃতজ্ঞ বোঝাতে পারব না। তারা আমার জন্য নানাভাবে এসএমএস করেছে। পাড়া-মহল্লায় দল বানিয়ে এসএমএস চেয়েছে। আমেরিকার মানুষরা যেমন আমাকে এসএমএস করেছিল, তেমনি ভিক্ষুকরাও আমাকে এসএমএস করেছিল। এই ভালোবাসা শোধ করব কীভাবে?
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সিদ্ধান্ত বাতিল
একবার আমি কুড়িগ্রামের ভেতরপুর গ্রামে গিয়েছি। তখন ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকে খুঁজছে বাংলাদেশ-এর ক্যাম্পেইন চলছে। মঞ্চে ওঠার সময় একজন বৃদ্ধ মহিলা ছুটে এলেন। আমার হাত ধরলেন। ২০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, বাবা, মুই ভিক্ষা করো। তোমাক ভোট দিবার চাও, ক্যাংকরি মোবাইলোত ভোট দ্যায়; তোরা দিয়া দিবেন...। মহিলা চলে গেল। আমার চোখে জল। মানুষ ভিক্ষার টাকা দিয়ে এসএমএস করে আজকের সাজু বানিয়েছে। ২০১০ সালে আমার স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লোরিডায় তিন মাস থেকে চলে এসেছি, শুধু এইসব মানুষের কথা ভেবে। যারা আমাকে বানিয়েছে।
এখন সংগীতে
সংগীত নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছি। এখন আমার লক্ষ্য সারা দেশে গানের একাডেমি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখন পর্যন্ত সারা দেশে জেলা-উপজেলা মিলিয়ে ৪০টি সংগীত একাডেমি রয়েছে আমার। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতে রয়েছে। গাজীপুর ও ঢাকাতে রয়েছে। সব জেলার পাশাপাশি সব উপজেলাতেও একাডেমি গড়ে তুলতে চাই। সারা দেশে সংগীত ছড়িয়ে দিতে চাই। এসবে সময় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন গান করছি। আসন্ন ঈদে আমার ৫টি গান মুক্তি পাবে জি-সিরিজ থেকে। গানগুলো মানুষ শুনবে। কারণ কথার সঙ্গে আবেগ রয়েছে। সম্প্রতি আমি ভাওয়াইয়া গানের গীতিকার হয়েছি। এটা আমার সংগীত জীবনের বড় অর্জন।
উপজেলা চেয়ারম্যান হতে চান
আমি কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। গত সংসদ নির্বাচনে আমি কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র তুলেছিলাম। মনোনয়ন পাইনি। এবার উপজেলা নির্বাচন করতে এলাকায় এসেছি। আমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছি মানুষের জন্য কাজ করতে। সেই সুযোগ পেলে করব, না পেলে নাই। আমার জায়গা থেকে নিজের কোনো অসন্তুষ্টি নেই আমার। মানুষের জন্য কাজ করেই যাব। সংগীত থেকে যা আয় করি, নিজের জন্য খরচ করি আর বাকিটা মানুষের জন্য দিয়ে দিই। এভাবে চললেও সমস্যা নেই। তবে একবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে হয়তো সে জায়গাটা বড় হবে।
শাকিবের চেয়ে এগিয়ে থাকা অপু ও একটি পুরনো ছবি
শ্যারনকে নায়কের বিছানায় যেতে চা দেন প্রযোজক