সুলতানা কামালের পর ফিরোজা খাতুন

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৪, ১২:১৫ এএম

সুলতানা কামাল খুকীর পর দ্বিতীয় নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হতে যাচ্ছেন সাবেক অ্যাথলেট ফিরোজা খাতুন। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১০ জন পদকপ্রাপ্তের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক দ্রুততম মানবী ফিরোজা খাতুনের নাম রয়েছে। এ মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীতদের হাতে তুলে দেবেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার।

২০১২ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ফিরোজা। যে পদক ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেন ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়ানো এই অ্যাথলেট। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বাধীনতা পদকের জন্য আবেদন করেছিলেন ফিরোজা। এরপর থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন সরকারের সিদ্ধান্তের। শুক্রবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোনে তাকে দেওয়া হয় সুসংবাদ; যা শুনে নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। ফোনটা পেয়েই কান্না চলে আসে তার, ‘দুপুরে যখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন পাই, তখন খুশিতে চোখে পানি চলে এসেছিল। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আততায়ী বুলেটে নিহত কিংবদন্তি অ্যাথলেট সুলতানা কামাল খুকীকে প্রথম নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে ২০০০ সালে মরোনত্তর স্বাধীনত পদকের জন্য মনোনীত হয়েছিল। এর দুই যুগ পর একজন নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে ফিরোজা পেতে যাচ্ছেন এই সম্মান। কাকতালীয়ভাবে দুজন নারীই এই সম্মানে ভূষিত হয়েছে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড মাতিয়ে। ফিরোজা ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল এই দশ বছরে জাতীয় ও সামার মিট মিলিয়ে ১০বার দ্রুততম মানবী হয়েছিলেন। সুলতানা কামাল খুকীর পর এখন থেকে নিজের নাম উচ্চারিত হবে ভেবেই আবেগ আক্রান্ত হয়ে পড়লেন ফিরোজা, ‘খুকী আপা ছিলেন অনন্য ক্রীড়াবিদ। তিনি কিংবদন্তি। সবচেয়ে ভালো লাগছে খুকী আপার পর এখন থেকে আমার নাম উচ্চারিত হবে।’ মাস কয়েক আগে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ফিরোজা করিম নেলী অনলাইনে ফিরোজা খাতুনকে স্বাধীনতা পদকের জন্য আবেদন করতে বলেন। তার অনুরোধেই আবেদন করে মিলল সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। তাই নেলীর প্রতিও কৃতজ্ঞাতা ঝরেছে ফিরোজার কণ্ঠে।

১৯৭৭ সাল থেকে প্রবর্তিত স্বাধীনতা পদকে ক্রীড়াঙ্গনের খুব বেশি ব্যক্তিত্ব বা প্রতিষ্ঠান ভূষিত হননি। প্রথমবার অ্যাথলেটিকসে অসামান্য নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক পান হাবিলদার মোস্তাক আহমেদ। এরপর একে একে এই পদক পেয়েছেন অ্যাথলেট আব্বাস মির্জা, সাঁতারু মোশাররফ হোসেন, প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, অ্যাথলেট শাহ আলম, ক্রীড়া সংগঠক কাজী আবদুল আলীম, শুটার আতিকুর রহমান, ফুটবলার জাকারিয়া পিন্টু ও কাজী সালাউদ্দিন, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ কামাল, প্রথম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া সাঁতারু ব্রজেন দাস, সুলতানা কামাল খুকী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং সর্বশেষ গত বছর সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক এএসএম রকিবুল হাসান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত