মানুষের মাঝে শৃঙ্খলা আনে রোজা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩১ এএম

মুমিনদের আত্মগঠন ও প্রশিক্ষণের জন্য এক অনন্য সেরা মাস রমজান। মুসলিম জাতির জন্য রহমতস্বরূপ এ মাসে থাকে আত্মগঠন, নৈতিক উন্নতি, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সামাজিক সাম্যের নিশ্চয়তা বিধানের এক অনন্য সুযোগ। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা নয়। অশ্লীল কথাবার্তা ও অশালীন আলোচনা থেকে দূরে থাকাই আসল রোজা। অতএব হে রোজাদার! যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় বা তোমার সাথে অভদ্রতা করে তাহলে তাকে বলো, আমি রোজাদার।’ (ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিকাম)। তিনি আরও ইরশাদ করেন ‘আমার উম্মত যদি রমজান মাসের গুরুত্ব বুঝত, তাহলে তারা সারা বছর রমজান কামনা করত।’ রমজানের পুরো মাস দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা একজন রোজাদারকে ইসলামি অনুশাসন অনুসরণে অভ্যস্ত করে তোলে। রমজান মাসে রোজাদারকে শেষ রাতে সাহরি খেতে উঠতে হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পানাহার বন্ধ করে দিতে হয়। এমন অনেক কাজ আছে সারাদিন যেগুলো থেকে বিরত থাকতে হয়। সূর্যাস্তের নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করতে হয়। সামান্য আগে-পরে করা যায় না। কিছু সময়ের জন্য আরাম-আয়েশেরও ব্যবস্থা আছে। তারপরই তারাবির নামাজের জন্য মসজিদের দিকে ছুটতে হয়। এভাবে পূর্ণ একটি মাস সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজাদারকে সৈনিকের মতো মজবুত নিয়মে আবদ্ধ থাকতে হয়। এরপর বাকি এগারো মাসের জন্য বাস্তব ক্ষেত্রে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ মাসে রোজাদার যে প্রশিক্ষণ লাভ করে পরবর্তী এগারো মাসে বাস্তব কাজ-কর্মে যেন তা বাস্তবায়িত হয়, এটাই রমজান মাসের মূল শিক্ষা। তবে মনে রাখতে হবে, প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হলেই কেউ ভালো সৈনিক হিসেবে গড়ে উঠে না। ভালো সৈনিক হতে হলে সৈনিক জীবনের মূল দর্শন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে তাকে পূর্ণ আস্থাশীল হতে হবে। তেমনি রমজানে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেও অনেকেরই আত্মিক পরিশুদ্ধি আসে না। কারণ আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য প্রয়োজন ইসলামের মূল দর্শন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একত্ববাদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত