জাকাত বর্জনে ভয়াবহ শাস্তি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪২ এএম

ইসলাম যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর যুগ-যুগ ধরে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত আছে তার অন্যতম একটি জাকাত। সঠিকভাবে জাকাত আদায় করলে একদিকে বিত্তবানদের সম্পদ পরিশুদ্ধ ও পবিত্র হয়। অন্যদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা, নিপীড়িত, নিষ্পেষিত বিশাল এক জনগোষ্ঠীর দারিদ্রতা ও অসচ্ছলতা দূর হয়ে শান্তি ও সচ্ছলতার মুখ দেখে। বিপরীতে যারা দুনিয়ার লোভ-লালসা ও অর্থকড়ির মোহে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান জাকাতকে বর্জন করে, তারা জাকাত আদায়ের যাবতীয় সুফল ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই জাকাত আদায়ে গড়িমসি কাম্য নয়। অন্যথায় পেতে হবে ভয়ংকর শাস্তি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জাকাত অনাদায়কারীর ব্যাপারে নানা ধরনের শাস্তি ও নিন্দার ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে।

যাদের ওপর জাকাত ফরজ : ‘সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন, বালেগ, মুসলমান ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে, তার ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।’ -বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯

জাকাতের খাত : যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তারা কাদের জাকাত প্রদান করবেন, সে প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘জাকাত তো কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য। এ হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ -সুরা তাওবা : ৬০

জাকাত না দেওয়ার পরিণতি : জাকাত শরিয়তের অকাট্য ফরজ বিধান। যারা জাকাত আদায় করে না তারা শরিয়তের দৃষ্টিতে কঠিন অপরাধী এবং আখেরাতে ভীষণ শাস্তির সম্মুখীন হবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা সোনা-রুপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের যন্ত্রণাময় শাস্তির সুসংবাদ দাও। যেদিন সেই ধন-সম্পদ জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে, তারপর তা দ্বারা তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। বলা হবে, এই হচ্ছে সেই সম্পদ, যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যে সম্পদ পুঞ্জীভূত করতে, তার মজা ভোগ করো।’ -সুরা তওবা ৩৪-৩৫

জাকাত না দেওয়া সম্পদ দ্বারা শাস্তি : আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যেকোনো স্বর্ণ ও রুপার মালিক এমন নেই যে, তার হক (জাকাত) দেয় না, কিন্তু তার অবস্থা এই হবে যে, কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তিকে আজাব দেওয়ার জন্য ওই স্বর্ণ-রুপা দিয়ে পাত তৈরি করা হবে। তারপর সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে। তারপর সেগুলো দ্বারা পাঁজর, কপাল ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। যখন ঠা-া হয়ে যাবে, তখন পুনরায় সেগুলো উত্তপ্ত করা হবে ৫০ হাজার বছর।’ -সহিহ মুসলিম ২২৯০

জাকাত বর্জন করায় সাপের শাস্তি : আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যাকে আল্লাহতায়ালা সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তার জাকাত প্রদান করে না, কিয়ামতের দিন ওই সম্পদকে বিষাক্ত সাপে পরিণত করা হবে, যার উভয় চোখের ওপর দুটি বিন্দু থাকবে। এমন সাপ অত্যধিক বিষাক্ত হয়। ওই সাপ তার গলায় বেড়ির মতো পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। সাপ তার উভয় চোয়ালে কামড় দেবে এবং বলবে আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়।’ -সহিহ বুখারি ১৪০৩

জাকাত বর্জনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকাশ পায় : আবু বুরাইদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জাতিই জাকাত দেওয়া বন্ধ করে, আল্লাহতায়ালা তাদের দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত করেন। অপর বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর বৃষ্টি বন্ধ করে দেন।’ -আল মুজামুল আওসাত

যাদের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তারা যেন তাদের সম্পদের যথাযথ হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে যাকাত প্রদান করে উপরোক্ত শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে, মহান আল্লাহ তাদের সে তওফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত