রমজানে আমলের পরিকল্পনা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ১১:৪৩ পিএম

রমজান মাসে আমলের জন্য পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। রমজানে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো হতে হবে সুবিন্যস্ত ও স্পষ্ট। তাহলে রমজান সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং রমজানের বরকত ও সওয়াব মিলবে। এজন্য কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

নিজে নিজে লক্ষ্য নির্ধারণ করা : রমজান নিয়ে আপনার লক্ষ্য হতে হবে প্রাসঙ্গিক। স্ব-প্রণোদিত হয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন। কারও কথায় আকৃষ্ট না হয়ে নিজের তাড়না থেকে লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি থাকে। মানুষ সাধারণত এমন সব লক্ষ্য নির্ধারণ করে, যা পূরণ করা সহজেই সম্ভব। তবে রমজানে এমন করবেন না। একটু কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। জীবনে আগে কখনো রমজানের প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়েননি, প্রতিদিন এশার নামাজের পর সম্পূর্ণ তারাবির নামাজ পড়েননি, আগে কখনো ইতিকাফ করেননি, তাহলে এবার চেষ্টা করুন। কেননা রমজানে কাজগুলো করা সহজ। কারণ শয়তান শেকলবদ্ধ থাকে এবং চারদিকে প্রবহমান থাকে রমজানের সুশীতল বাতাস। তাছাড়া আমলের ফজিলতও অনেক বেশি। রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিজের কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন এবং রমজানের আগের বিশ দিন যে পরিমাণ ইবাদত করতেন, শেষ দশ দিন তার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিতেন। আমাদের এভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার টার্গেট রাখতে হবে।

মনে করুন, রমজানে আপনি একবার সম্পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত করার লক্ষ্য স্থির করলেন। তাহলে প্রতিদিন এক পারা অর্থাৎ ২০ পৃষ্ঠা তেলাওয়াত করতে হবে। তাহলে আপনি দিনে ১০ পৃষ্ঠা আর রাতে ১০ পৃষ্ঠা তেলাওয়াত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। অথবা প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৪ পৃষ্ঠা করে পড়তে পারেন। এভাবে সংখ্যাবাচক লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তা পূরণ করা সহজতর হবে।

পর্যালোচনা : রমজানে আপনার লক্ষ্য কতটুকু পূরণ করতে পারছেন, তা প্রতিদিন হিসাব নিতে হবে, আত্মপর্যালোচনা করতে হবে। তাহলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং কোথায় আরও বেশি চেষ্টা চালাতে হবে। ইসলামি পরিভাষায় আত্মপর্যালোচনাকে মুহাসাবা বলে। হজরত হাসান (রহ.) বলেন, ‘মুমিন তার নিজের অভিভাবক। সে নিজেই নিজের হিসাব গ্রহণ করে। যারা দুনিয়াতে মুহাসাবা করেছে, আপন কৃতকর্মের হিসাব নিয়েছে, কেয়ামতের দিন তাদের হিসাব সহজ হবে। আর যারা মুহাসাবা ছাড়া জীবনযাপন করেছে, তাদের হিসাব কঠিন হবে।’ -হিলয়াতুল আউলিয়া

নির্দিষ্ট লক্ষ্য : আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, লক্ষ্য নির্দিষ্ট হওয়া। যেমন আপনি রমজানে আপনার চরিত্র সুন্দর করতে চান। তা কীভাবে করবেন? কার সঙ্গে করবেন? চরিত্রের কোন কোন দিকগুলো সুন্দর করবেন? কোন কোন দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবেন এ ধরনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখতে হবে।

কর্মসূচি : আপনি চাইলে রমজানে ১০০ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। কিন্তু আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকলে আপনি এর কোনোটাই পূরণ করতে পারবেন না। তাই এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আপনি প্রতিদিন ২০ পৃষ্ঠা কোরআন পড়বেন, ভালো কথা। এখন আপনি হিসাব করুন ১ পৃষ্ঠা তেলাওয়াত করতে কত সময় লাগে। এভাবে পরিকল্পনা করে নিতে হবে, প্রতিদিন তেলাওয়াতে কত সময় দিতে হবে। এভাবে যদি আমারা পরিকল্পনা ও হিসাব মাফিক সবকিছু করতে পারি তাহলে রমজান মাসের আমল দ্বারা আমারা উপকৃত হতে পারব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত