জবি উপাচার্য

ক্যাম্পাসের যৌন নিপীড়ন বক্সের চাবি থাকবে আমার কাছে

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ০২:২১ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম এক দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আবার কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। আদালতের বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেছেন, ‘ক্যাম্পাসের যৌন নিপীড়ন বক্সগুলো পরিষ্কার করে নতুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বক্সগুলোর তালার চাবি আমার কাছে থাকবে। আমি নিজে বক্সগুলো খুলে চেক করব প্রতিনিয়ত।’ গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আয়োজনে অবন্তিকার স্মরণে শোকসভায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবার অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় তার মায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের দুদিন রিমান্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এর আগে রবিবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে তাদের গ্রহণ করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল।

শুক্রবার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবন্তিকার সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ী করে গলায় ফাঁস নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা। পরে নিহত অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম বাদী হয়ে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

ক্যাম্পাসের যৌন নিপীড়ন বক্সগুলোর তালার চাবি আমার কাছে থাকবে : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, ‘আসলে আমার বলার কোনো ভাষা নেই। আমি অনুরোধ করব অবন্তিকাকে কোনোভাবে যাতে মেন্টাল ডিসঅর্ডার দিয়ে বিবেচনা না করা হয়। দেশে নারীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় শুধু সমাজের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আমিও তো বুলির শিকার হয়েছি। তবে আমি বুলি নিতে পারি কারণ ৩০ বছর ধরে সহ্য করে আসছি।’

উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সাত কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট যাতে সুষ্ঠু হয় সেদিকে লক্ষ রাখা হবে।’

গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে উপাচার্য বলেন, ‘প্রক্টরের কাছে অবন্তিকার দেওয়া অভিযোগটি কে কে অবহেলা করেছে সেটার তদন্ত হবে। আশা করি তদন্ত কমিটি এটা বের করে আনবে। কেন অবন্তিকার ওই চিঠি অবহেলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ভীষণভাবে দগ্ধ। আমি মাফ চাই আমার শিক্ষার্থীদের কাছে। আর কারও কাছে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রকল্যাণ প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়াব, শুধু একজন পুরুষ পরিচালক থাকবে না, একজন নারীও থাকবে। অনেক সময় অনেক কথা শেয়ার করা যায় না এই গ্যাপটা যেন না থাকে। শুধু মেয়ে না ছেলেরাও তাদের সমস্যার কথা যেন ছাত্র উপদেষ্টার সঙ্গে শেয়ার করতে পারে।’

দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সাময়িক বহিষ্কার না করলে এত দ্রুত বিচার করা যায় না। আমাদের যে তদন্ত কমিটি তা বিশ্ববিদ্যালয় আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। একটি তদন্ত দ্রুত করা যায় না। আইন বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীকেই তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে। আগের প্রক্টর টিমকেও আনা হবে, বস্তুনিষ্ঠ কাজ করতে হবে তদন্ত কমিটির। তবে অবন্তিকার এ বিষয়ে কাউকে রাজনৈতিক খেলা খেলতে দেওয়া হবে না। আমাদের ওপর আস্থা রাখো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন বক্সের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘ক্যাম্পাসের যৌন নিপীড়ন বক্সগুলো পরিষ্কার করে নতুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বক্সগুলোর তালার চাবি আমার কাছে থাকবে। আমি নিজে বক্সগুলো খুলে চেক করব প্রতিনিয়ত।’ গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আয়োজনে অবন্তিকার স্মরণে শোকসভায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রক্টরিয়াল বডির সব সদস্যের পদত্যাগ দাবি : এদিকে গতকাল ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে জবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় কর্মসূচিতে তারা যৌন নিপীড়ন, প্রশাসনিক-অ্যাকাডেমিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখান। সব ধরনের নিপীড়নের দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে জবি প্রক্টরিয়াল বডির সব সদস্যের পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, আগামীকাল (আজ) বুধবার দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। এতে ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতিসহ নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরবেন।

এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিফ বলেন, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের আচরণ পেটোয়া বাহিনীর মতো। তারা এমন কাঠামো ভেঙে দিতে চান। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডির সব সদস্যের পদত্যাগ চান তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত