দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে ট্রেনের সামনে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি ক্যামেরা) বসানোর সুপারিশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে সেন্সর সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দুর্ঘটনার আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। কমিটির সদস্য রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম, শফিকুল ইসলাম শিমুল, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মো. শফিকুর রহমান ও নুরুন নাহার বেগম বৈঠকে অংশ নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রেলের কত জমি আছে এবং কী পরিমাণ জমি লিজ দেওয়া হয়েছে এবং লিজের জমিগুলো কোথায় কার কাছে আছে, তা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে হালনাগাদ তথ্য দিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি। এ ছাড়া ট্রেনের অনলাইন টিকেটিংয়ে সহজ ডট কমের সঙ্গে গৃহীত চুক্তি অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজ কত শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে তার হালনাগাদ তথ্য আগামী বৈঠকে প্রদান এবং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাকি কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।
বৈঠকে রাজশাহী রেলস্টেশনে একতলা ভবনের পাইলিং-পরবর্তী নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তের লক্ষ্যে কমিটির সদস্য মো. শফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও নুরুন নাহার বেগমকে সদস্য করে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকে সম্প্রতি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসানপুর রেলস্টেশনের কাছে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শনের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের কল্যাণে যুগোপযোগী পরিকল্পনা করার সুপারিশ : মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশের কল্যাণে যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম, ড. বীরেন শিকদার, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, মো. আবদুস সবুর, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং খালেদা বাহার বিউটি অংশ নেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধনের উদ্দেশ্যে ‘মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্প ও ‘দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয় বৈঠকে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা অপরিসীম মর্মে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। দেশের বৃহৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করায় মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানানো হয় কমিটির পক্ষ থেকে।
