শিক্ষক সমাজের ভূমিকা হতাশাজনক

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪, ১২:৫৩ এএম

সাহিত্যিক এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিষয়ের অধ্যাপক সুমন রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিপীড়ন ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছুদিন পরপরই আলোচনায় আসছে। সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর বেশ আলোড়ন তুলেছে। এ প্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক চিত্র নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী

দেশ রূপান্তর : কিছুদিন পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিপীড়ন, বুলিং, র‌্যাগিংয়ের মতো বিষয়গুলো মাথাচাড়া দেওয়ার কারণ কী?

সুমন রহমান : এক কথায় এ বিষয়গুলোর কারণ নির্দেশ করা কঠিন। আমরা সার্বিকভাবে একটা মমতাশূন্য, সহিংস এবং বিবেচনাহীন সমাজে বাস করি। তার মধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সার্বিকভাবে একটা অপরাজনৈতিক সমাজব্যবস্থা এবং ঢিলেঢালা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর পরিচালিত হয়। সমাজের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিফলিত হয়, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এনক্লোজার সহিংসতার এজেন্টদের এক ধরনের ইমিউনিটি দেয়। তার সঙ্গে অপরাজনীতির ইন্ধন তো আছেই। ফলে দেখা যায়, নিজ গ্রামে বা পাড়ায় যাকে আমরা অতিশয় ভদ্র মানুষ হিসেবে জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসরে সেই অচেনা হয়ে উঠছে, অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করছে।

দেশ রূপান্তর : সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা কেমন দেখতে পান?

সুমন রহমান : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোনো সমরূপী বর্গ নয়। বেশিরভাগ শিক্ষকই তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের ঘেরাটোপে থাকেন। যেটা তার মূল দায়িত্ব- অর্থাৎ জ্ঞান বিতরণ তিনি সেটা তার সাধ্যমতো করে থাকেন। কিন্তু এর বাইরে আরও একদল শিক্ষক থাকেন, যারা ক্ষমতাকাঠামোর অংশ। তাদের হাতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ভার। সেই ভার বহনে তারা নানাবিধ কারণেই অক্ষম এবং অনিচ্ছ। সার্বিকভাবে এই বর্গের ভাবমূর্তিকে গোটা শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি মনে করা হয়। কাজেই এখন বলতেই হবে যে, শিক্ষক সমাজের ভূমিকা হতাশাজনক এবং ক্ষেত্রবিশেষে লজ্জাকর।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতির প্রভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার দায় কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

সুমন রহমান : আগেই বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটা অদ্ভুত কেমেস্ট্রি। এর দায়িত্বে যারা থাকেন তারা দুরকমের হন : হয় গু-াগার্দির ট্র্যাক রেকর্ড আছে এমন কেউ, না হলে ঠুঁটো জগন্নাথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বা বাইরে এই প্রশাসনের কোনো জবাবদিহি আছে এমন প্রমাণ পাই না। যেহেতু এই প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আজকে যিনি শিক্ষক, গতকাল তিনি ছাত্রনেতা বা পাতিনেতা ছিলেন। ফলে, ছাত্রাবস্থায় তিনি বা তারা যে অপরাজনীতির খোঁয়াড়ে ছিলেন, শিক্ষকজীবনে এসে এর থেকে বাইরে আসার ক্ষমতা এবং সদিচ্ছা কোনোটাই তাদের থাকে না। এই রাজনীতির প্রতি বশ্যতাই তাকে শিক্ষক বানিয়েছে। ফলে একে তিনি সার্ভ করে যেতে বাধ্য। ফলে তিনি যে শিক্ষক-রাজনীতি করছেন, সেটি তার ছাত্ররাজনীতিরই এক্সটেনশন মাত্র। অর্থাৎ তিনি একই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যেই বসবাস করছেন, শুধু তার পরিচয় বা এফিলিয়েশন বদলেছে মাত্র। মানুষটি একই আছেন।

দেশ রূপান্তর : ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও বিশেষ করে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার কথা শোনা যায়। আপনার মন্তব্য কী?

সুমন রহমান : ছাত্র সংগঠনই হোক, কিংবা শিক্ষকদের দ্বারাই হোক, যৌন নির্যাতন ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি সবার মধ্যেই আছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনা কেউই জনপরিসরে আনতে চান না। সঙ্গত কারণও আছে। যারা নির্যাতক তারা তো আনবেন না। আর যারা নির্যাতিত তারাও চেপে যেতে চান যতক্ষণ পারা যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ খুব কমই নির্যাতিতার পক্ষে দাঁড়ায়। আর সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠান এসব খোঁচাখুঁচি করবে কেন? ঝামেলা কে নিতে চায় বলেন? কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরুলে সামাল দেবে কে?

দেশ রূপান্তর : যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা ও সেল কি কোনো কাজে আসছে না? কেন?

সুমন রহমান : দেখুন, যৌন নির্যাতন একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার হওয়া কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন বিচারিক পদ্ধতি। শিক্ষকদের দিয়ে বানানো একটা প্রক্টরিয়াল টিম কীভাবে এর তদন্ত করবে? এসব বিষয় তদন্তের অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে। যৌন নির্যাতনের তদন্ত কখনো কখনো খুব টাইম-সেনসিটিভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা হয় মূলত বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক অসদাচরণের জন্য। সেগুলো দিয়ে বুলিং র‌্যাগিং হ্যান্ডেল করা যেতে পারে হয়তো। কিন্তু যৌন নিপীড়ন, আগেই বলেছি, একটা ফৌজদারি অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বানানো কোনো কমিটিই এই অপরাধের প্রতিকার করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হলে যেমন সেটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরিত হয়, তেমনি যৌন নির্যাতনের ঘটনাও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যাওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল বড়জোর এমন কোনো ঘটনাকে যথাসম্ভব দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় ট্রান্সফার করার কাজটুকু করতে পারে।

দেশ রূপান্তর : মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও সহায়তার দায়িত্ব যাদের দেওয়া হয়, তারা কী কাজ করেন?

সুমন রহমান : তারা নিশ্চয়ই কিছু না কিছু করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাদের কাছে ভুক্তভোগীরা যাচ্ছে কিনা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সুনাম আছে। তাদের বেশ কয়েকটি গবেষণা এবং পরামর্শকেন্দ্র আছে, যেখান থেকে সাধারণ জনগণ নামমাত্র হাদিয়ায় সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং নিতে আসেন। তা ছাড়া কাউন্সেলিং হচ্ছে পরের ঘটনা। আগে তো বিপর্যয় শেষ হওয়া লাগবে, তবেই না তার ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার মামলা!

দেশ রূপান্তর : কিছু ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগের ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে। অন্যকে ফাঁসাতে এই প্রবণতার ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরাও প্রশ্নের মুখে পড়েন। আপনার মন্তব্য কী?

সুমন রহমান : এ জন্যই বলেছি, এসব বিষয়ে পেশাদারি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাজ নয়। কয়েক দিন আগে দেখলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জানাচ্ছেন, তিনি ক্যাম্পাসের জায়গায় জায়গায় ডাকবাক্স বসাবেন যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিপীড়নসংক্রান্ত অভিযোগগুলো তাকে চিঠি লিখে জানাবে। এসব ডাকবাক্সের চাবি কেবল তার কাছেই থাকবে। খুব ভালো মনোভাব নিঃসন্দেহে। কিন্তু অকার্যকর এবং অবাস্তব। এই ডিজিটাল জমানায় জায়গায় জায়গায় ডাকবাক্স বসিয়ে ডাকপিয়নের দায়িত্বটুকুও নিজের হাতে কেন নিতে যাচ্ছেন তিনি? তার বদলে একটা মামুলি ইমেইল যোগাযোগই কি পর্যাপ্ত ছিল না? বিষয়টা ভেবে দেখুন : সবাই যখন জানবে যে, এই ডাকবাক্সে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ফেলা হয়, তখন কার পক্ষে জনসমক্ষে ওখানে গিয়ে চিঠি ফেলা সম্ভব? আর এই পদ্ধতিতে, আপনি যেটা বললেন, বেনামি চিঠি বা ভুয়া অভিযোগ করার প্রবণতা কী বাড়বে না কমবে? ইমেইল কিংবা অ্যাপস-বেজড সলিউশনে সেটা হওয়ার সুযোগ কম। বাক্স থেকে বাক্সে না ঘুরাঘুরি করার ফলে উনার মূল্যবান সময়ও বাঁচবে। অভিযোগকারীকে দিনের আলোয় কোনো ডাকবাক্সের দিকে হন হন করে হেঁটেও যেতে হবে না। আমার মনে হয়, এসব বিষয় আমাদের আরেকটু কার্যকরভাবে ভাবা উচিত।

দেশ রূপান্তর : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ঘটনা তো সামনে আসে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিত্র কী রকম?

সুমন রহমান : গণমাধ্যমে তো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তেমন কোনো ঘটনা চোখে পড়ে না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রেপুটেশনকে গুরুত্ব দেয়। নিরাপত্তাহীনতা অত্যন্ত খারাপ ইন্ডিকেটর তাদের জন্য। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা না-থাকায় প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ কম। জবাবদিহিতা বেশি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রিডেটর হওয়ার সুযোগ খুবই কম, কারণ তার চাকরি বেশিরভাগ জায়গাতেই চুক্তিভিত্তিক। এটা খুব ভালো চর্চা নয়, কিন্তু এতে করে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের জমিদারি আর শিক্ষার্থীদের প্রজা ভাবার প্রবণতা তাদের তৈরি হয় না। যেটা পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারও কারও হতে পারে। তারপরও এই ভয়াবহ প্রিডেটরি কালচারের আঁচ থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতকাল নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবে তা বলা কঠিন।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষকদের কেউ যৌন নিপীড়নের মতো দায় নিয়ে অভিযুক্ত হলে তাকে সাময়িক বা চূড়ান্ত বহিষ্কার কিংবা অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, ফৌজদারি অপরাধের দায় কি চাকরি হতে অব্যাহতি?

সুমন রহমান : এতক্ষণ এটাই বললাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার এটুকুই। চূড়ান্ত সদিচ্ছা থাকলেও এর বেশি সে করতে পারে না। কিন্তু যৌন নির্যাতন একটি ফৌজদারি অপরাধ। যদিও এমন বলা হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্রিয়া শেষ হলে ভুক্তভোগী পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারবে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

দেশ রূপান্তর : নিরাপত্তার বিষয়টি এত প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। উদাহরণ শাবিপ্রবি। আপনার মন্তব্য কী?

সুমন রহমান : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন থেকে ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রকারান্তরে একটা মিথ। আমি তো ভাইস চ্যান্সেলর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী পর্যন্ত কাউকেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেখি না। তবু যে আমরা খালি স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের জপ তুলছি এটা হাস্যকর। এখন মুশকিল হলো শাবিপ্রবি বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের সান্ধ্য আইন চালুর ঘটনাকে যদি আপনি ইঙ্গিত করে থাকেন, আমিও তার প্রতিবাদ করব। এটা একপেশে এবং সাংঘাতিক অসংবেদনশীল নীতি। অবন্তিকাকে হ্যারাস করার জন্য তো দিনের আলোই যথেষ্ট ছিল। সান্ধ্য আইন করার মাধ্যমে আপনি আসলে নারী শিক্ষার্থীদের এজেন্সিকে অপমান করছেন। তাদের অধিকার খর্ব করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তার সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। নিরাপত্তা বিধান বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, কিন্তু তা অংশবিশেষের অধিকার খর্ব করে নয়।

দেশ রূপান্তর : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ছাত্ররাজনীতিকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কেন?

সুমন রহমান : বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বাংলাদেশে তো লোভনীয়। পরীক্ষায় প্রথম বা দ্বিতীয় হলেই চলে, চাকরি হয়ে যায়। কখনো কখনো সেটা না হলেও চলে। বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ন্যূনতম যোগ্যতা একটা মানসম্মত পিএইচডি। চাকরি স্থায়ী করতে হলে অন্যত্র শিক্ষককে দিন-রাত খেটে খেটে গবেষণা ও প্রকাশনা করতে হয়। শিক্ষকতা জীবনের অর্ধেকই চলে যায় টেনিউর জোগাড় করতে করতে। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ডে-ওয়ান থেকেই টেনিউরড। স্বায়ত্তশাসন এবং ইমিউনিটি থাকায় যে কোনো শিক্ষক চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা জমিদারির মতো উপভোগ করতে পারে। বাকি থাকে টাকা। সেটাও আজকাল নানাভাবে এসে যায়। ফলে, এই সুযোগ কেই ছাড়তে চায়?

দেশ রূপান্তর : ক্যাম্পাসগুলোতে মাদকের বিস্তারের সঙ্গে যৌন হয়রানির কি সম্পর্ক আছে বলে মনে করেন?

সুমন রহমান : মাদকের বিস্তার তো মনে হয় অনেককাল ধরেই আছে। কিন্তু যৌন হয়রানির যে বিস্তার এখন দেখতে পাচ্ছি, সেটা আগে ওভাবে দেখিনি। অতীতে যৌন হয়রানির বেশ কিছু কেস, আমরা যেগুলো জেনেছি, তাদের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে, তারা যে সাংঘাতিক মাদকসেবী ছিলেন এমন শুনিনি। তবে দুটোই অনাকাক্সিক্ষত। বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই মাদক কিংবা যৌন হয়রানির জায়গা হতে পারে না।

দেশ রূপান্তর : ইদানীং যৌন হয়রানির পুরনো ঘটনা সামনে আসছে, একই সঙ্গে তখন একাধিক নারী শিক্ষার্থী নীরবতা ভেঙে খবর হচ্ছেন। তাহলে তাদের চুপ থাকা এবং পরে কোনো ইস্যু সামনে এলে তা প্রকাশ করাকে কীভাবে দেখেন?

সুমন রহমান : এটাই তো হওয়ার কথা। পাবলিকলি বলার আর কোনো সুযোগ তো তাদের নেই। তারা আগে বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে, কিংবা হয়তো পুলিশের কাছে। তাতে কাজ হয়নি। সামাজিক বিধিনিষেধ আছে, পারিবারিক চাপ আছে। সেসব মোকাবিলা করেই তারা প্রতিবাদ করেছেন। কাজ যখন হয়নি, তখন চোখের পানি গোপন করে নীরব হয়ে গেছেন। পরবর্তী সময় যখনই এ রকম কোনো মোমেন্টাম তৈরি হয়, তারা তখন সরব হন। জানান দেন তাদের ওপর ঘটে যাওয়া অবিচারের বিষয়ে। এটাই তো স্বাভাবিক।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষক রাজনীতি ও পদ-পদবির হিসাব-নিকাশ শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা করছে কিনা?

সুমন রহমান : আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি না থাকা উচিত। তারা রাজনীতি করতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণের জায়গা। আমাদের অন্যত্র কথা বলার স্বাধীনতা নেই সত্য, কিন্তু তার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ই যদি নিতে থাকে, তবে সে নিজের কাজটুকু কখন করবে? আমার মনে হয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এসব দলীয় রাজনীতি থেকে রেহাই দেওয়া উচিত। জগৎ বদলাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরও গত শতকের আশির দশকের হ্যাঙওভার কাটিয়ে সামনে এগোনো দরকার।

দেশ রূপান্তর : সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

সুমন রহমান : আপনাকেও ধন্যবাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত