ভীত শাসকে মৃত গণতন্ত্র!

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:২৯ এএম

ভারতের লোকসভার সাত ধাপের নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে দলটির আরও দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একই অভিযোগে। এরমধ্যে গতকাল শনিবার বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের কলকাতার বাড়িতে তল্লাশি চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। সেখান থেকে খালি হাতে ফিরলেও তৃণমূলের এই নেত্রীর বিরুদ্ধে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ করার অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে সিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সমনও পাঠাবে।

লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা এবং দেশ জুড়ে বিরোধীদের বাড়িতে তল্লাশি বা অভিযান গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ। কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার ও বিরোধীদের ইডির মাধ্যমে হয়রানির নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলের প্রায় সব শীর্ষ নেতা। কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিরোধীদের জন্য শাপে বর হতে পারে। বিপদে পড়তে পারে মোদির বিজেপি। 

গত বৃহস্পতিবার কেজরিওয়াল ছাড়াও গ্রেপ্তার হওয়া আম আদমির অন্য দুজন হলেন দিল্লির সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া ও সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং। এ মামলায় ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) নেত্রী এবং তেলেঙ্গানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের মেয়ে কে কবিতাও এখন জেলে আছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, দিল্লিতে এই প্রথম ক্ষমতায় থাকাকালে কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা। কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এই অভিযোগ আনা হয় দিল্লি সরকারের ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতি ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ওই নীতিতে বেশ কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য ওই নীতি বাতিল করা হয়েছিল। তদন্ত সংস্থা ইডির অভিযোগ, এই নীতি করে আম আদমি পার্টির নেতারা ১০০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। অবশ্য আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মোদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা খুশি তা-ই করতে পারেন। এখন পর্যন্ত তিনি দুজন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছেন। তিনি সম্ভবত আরও মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করবেন।

এর আগে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন পদত্যাগের পরপরই ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। সরেন ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা দেশটির অন্য বিরোধী দল আপ ও কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অংশ। এই জোট আগামী নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে টক্কর দেবে। তবে বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি মোদি ও তার দল বিজেপির জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে বিরোধী নেতাদের প্রতি ভোটারদের সহানুভূতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সব বিরোধী দলের মধ্যে ঐক্য মজবুত করতে পারে।

কারণ কয়েক মাস আগে গঠিত বিরোধীদের জোট ইন্ডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়া অনেক দলও কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের কয়েক মিনিট পরেই রাহুল গান্ধী বলেন, ‘একজন ভীত স্বৈরশাসক একটি মৃত গণতন্ত্র তৈরি করতে চায়।’ তিনি ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ যাদব, এসপি নেতা অখিলেশ যাদব, এনসিপি (এসসিপি) নেতা শরদ পাওয়ার, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, শিবসেনা উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর মুখপাত্র আনন্দ দুবে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিসহ বিরোধী শিবিরের অনেক নেতা এই গ্রেপ্তারের নিন্দা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত