তারা সাগরে মরে ডুবে মরুতে পানির অভাবে

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪, ১২:১০ এএম

মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভূমধ্যসাগরে একটি ছোট রাবারের নৌকায় থাকা ৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর হয়েছে। দুই দিন আগে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে একটি নৌকা ডুবে মিয়ানমারের ৭০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই দুই ঘটনায় মূলত নিজের দেশে ছেড়ে ভিন দেশে পাড়ি জমাতে গিয়েই প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন দুটি মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জানা গেল লিবিয়ার মরুভূমিতে একটি গণকবরে পাওয়া গেছে কমপক্ষে ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলেছে, লিবিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় গণকবরটির সন্ধান পাওয়া গেছে। তাতে কমপক্ষে ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ ছিল। আইওএম বলেছে, কীভাবে ওই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু হলো এবং তাদের জাতীয়তা কী, তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে মরুভূমি হয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়ার সময় তারা মারা গেছেন।

দেহাবশেষগুলোকে সম্মানের সঙ্গে উদ্ধার করে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত এবং হস্তান্তর করতে লিবিয়া কর্র্তৃপক্ষ এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইওএম। লিবিয়া ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ঘটনায় সংস্থাটি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছে উল্লেখ করে এক মুখপাত্র বলেন, পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষের মৃত্যু বেড়ে যাচ্ছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

ইউরোপে যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য লিবিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সম্প্রতি লিবিয়া উপকূল থেকে রওনা করার পর ভূমধ্যসাগরে রবারের নৌকা নষ্ট হয়ে অন্ততপক্ষে ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। ওই নৌকা থেকে  উদ্ধার হওয়া ২৫ জন জানিয়েছে, তারা বেশ কয়েক দিন আগে লিবিয়ার জাওইয়া উপকূল থেকে রওনা হয়েছিল। কিন্তু তারা যাত্রা করার তিন দিন পরেই রাবারের নৌকাটির ইঞ্জিন অকেজো হয়ে যায়। তখন তাদের খাদ্য ও পানি সংকটে সময় পার করেতে হয়েছে। পরে এসওএস মেডিটিরিয়ানি নামক একটি মানবাধিকার সংস্থার উদ্ধার দল ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। তাদের ভাষ্যমতে, যারা মারা গেছেন তাদের মৃত্যু হয়েছে মূলত পানিশূন্যতা এবং খাবারের অভাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত