আগের রাতে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ছিল মেঘ-সূর্যের লুকোচুরি খেলা। তাতে রোদের দেখা মিলেছে সামান্যই। মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটফিল্ডও ছিল ভেজা। এমনিতেই উইকেট সাজানো হয়েছিল স্পিনারদের সুবিধা নিয়ে। সেখানে বৃষ্টি তা আরও যেন ধারালো করে দিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের পাতা ফাঁদে বাংলাদেশ নিজেরাই পা দিয়েছে। তাতে ফসকে গেছে সিরিজটাও।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ ৯৭ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে ১৫৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। স্বাগতিকদের ১০ উইকেটের নয়টিই শিকার করেছেন অসি স্পিনাররা। সেখানে সফরকারিদের নেওয়া ৪ উইকেটের দুটি নিয়েছেন স্পিনাররা। দুটি হয়েছে রানআউট। তবে কি হতাশ করেছেন বাংলাদেশি বোলাররা?
জানতে চাওয়া হয় দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা স্পিন বোলিং কোচ দিনুকা হেটিয়ারাচ্চি। তিনি বলেন, ‘আসলে ব্যাটসম্যানরা তো রান এনে দিতে পারেনি। ৯৭ রানে থেমে গেছে। ১০০ রানও করতে পারেনি। তাই বোলারদের জন্য এটা কঠিন ছিল।’
বৃষ্টির পর ভেজা মাঠে রান নেওয়া হবে কঠিন। এটা ক্রিকেটারদের অজানা থাকার কথা নয়। তবুও টস জিতে জ্যোতি বেছে নেন ব্যাটিং। এমন দিনে কি ব্যাটিং নেওয়াটা আদর্শ সিদ্ধান্ত ছিল? এর জবাবে হেটিয়ারাচ্চি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচের উইকেট অনেক ব্যাটিং সহায়ক। ব্যাটারদের এখানে ভালো করার সুযোগ ছিল। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটাররা রান করতে পারেনি।’
মাঠে নেমে ১০ ওভারে মাত্র ১৮ রান তুলতে পেরেছিল বাংলাদেশ। হারাতে হয়েছে উইকেটও। ওপেনারদের পরিকল্পনাটা আসলে কি ছিল? জবাবে স্পিন কোচ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল পাওয়ার প্লেতে ৪০-৫০ রান সংগ্রহ করা। তবে সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। এটা এমন নয় যে আমাদের ব্যাটাররা খুব খারাপ। তারা গত কয়েক বছরে সত্যিই অনেক ভালো করছে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ভালো খেলেছে।’
তবে কি এটা প্রতিপক্ষটা অস্ট্রেলিয়া বলে? যদিও সেটা নাকচ করেছেন হেটিয়ারাচ্চি। তাহলে কি নিজেদের পাতা ফাঁদের নিজেরাই ডুবল? এর ব্যাখায় শ্রীলঙ্কান এই কোচ বলেন, ‘না, আমরা সবসময় ঘরের মাটিতে স্পিন বোলারদের নিয়ে যাচ্ছি এবং ঘরের সুবিধা নিচ্ছি। আগেই বলেছি, আগে ব্যাট করলে বোলারদের ভালো স্কোর করতে হবে। তারপর আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারি। আমাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বের এক নম্বর দল। কিন্তু এটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। আপনি যেখানেই যান না কেন, শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলবেন।’
