দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের ঘটনায় মন্তব্য করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। জানিয়েছিল, কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর ওপর নজর রাখছে তারা। কারাবন্দী আম আদমি পার্টি প্রধান যাতে ন্যায্য এবং সময়োপযোগী আইনি প্রক্রিয়ার সুবিধা পান, তা নিশ্চিতের বিষয়টিও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (২৭ মার্চ) দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন উপ-প্রধান গ্লোরিয়া বারবেনাকে ডেকে সতর্ক করেছে ভারত। কিন্তু মিত্রদেশের একটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেন মন্তব্য করল?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি– দুই দেশেরই সুসম্পর্ক আছে। বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার প্রেক্ষিতে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। তার ওপর ভারতে শুরু হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া।
এমন একটা সময়ে মিত্রদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য অবাক করেছে অনেক বিশ্লেষককে। বিশেষ করে মন্তব্যটি এমন এক সময়ে করা হয়েছে, যখন কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার নিয়ে মন্তব্য করে আগেই ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে জার্মানি।
কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরীর এ বিষয়ে বিবিসিকে বলেছেন, ভোটের ঠিক আগে এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলেই মনে করা হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রেও এটা ভোটের বছর।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটরা সবসময়ই রিপাবলিকানদের তুলনায় মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরব। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভোটদাতাদের কাছে একটা বার্তা দেওয়ার হয়তো প্রয়োজন ছিল। সেজন্যই একটা মন্তব্য করতে তারা বাধ্য হয়েছে।
কেজরিওয়াল ইস্যু: মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে সতর্ক করল ভারত
ওমরাহ পালনকারীদের যেসব জিনিস বহনে নিষেধাজ্ঞা