জট পাকাচ্ছে মস্কো হামলার রহস্য

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০১:৪১ এএম

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রকাস সিটি হলে কনসার্টে বন্দুকধারীদের আক্রমণের ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে জট পাকাচ্ছে। রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্ব ও ইউক্রেনের হাত দেখছেন। আবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের পাশাপাশি ‘ইসলামপন্থিদের’ ভূমিকা দেখছেন এতে। এর মধ্যে রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুশের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে পুতিনের মতের ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মিত্রতাপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যায় আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর। ইউক্রেন যুদ্ধেও তিনি পুতিনের সমর্থক। তিনি গত মঙ্গলবার বলেন, ‘ক্রকাস সিটি হলে হামলাকারীরা ইউক্রেনের দিকে নয়, বরং প্রথম দিকে বেলারুশের দিকে পালিয়ে আসতে চেয়েছিল।’ কিন্তু পুতিন ঘটনার পর থেকে দাবি করছেন, হামলাকারীরা আক্রমণ শেষে ইউক্রেনের দিকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল এবং সেই পথের দিকে থাকা অবস্থায়ই আক্রমণকারীরা গ্রেপ্তার হন। শুধু তাই নয়, গত সোমবার পুতিনের ভাষ্য ছিল একরম ‘ঘটনা ঘটিয়েছে ইসলামি মৌলবাদীরা, কিন্তু তাদের নির্দেশ দিল কে? ইউক্রেনে তাদের জন্য কারা অপেক্ষা করছিল।’ পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেনে ফিরে যেতে হামলাকারীদের জন্য সীমান্তের দরজা খোলা রাখা হয়েছিল। 

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ারম্যান নিকোলাই পাত্রুসেভ এবং রুশ গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এফএসবির স্টেট সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান আলেক্সান্দার বোর্তনিকোভ গত মঙ্গলবারও তাদের আগের বক্তব্যে অবিচল থাকেন। তাদের ভাষ্য, কিয়েভই এই আক্রমণের নেপথ্যে। তবে, বোর্তিনিকোভ অভিযোগ করেছেন, ‘ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামপন্থি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।’মস্কোয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে রুশ গোয়েন্দাদের নানা ধরনের কথা সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। পুতিনের কথার সঙ্গে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কথার ঐক্য ততটা শক্তিশালী নয়।

এর মধ্যে লুকাশেঙ্কো সাংবাদিকদের বলেন, বেলারুশ ও রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি সামলেছে। আক্রমণকারীরা গাড়িতে করে মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে সীমান্তবর্তী ব্রিয়ান্সক অঞ্চলের দিকে এসেছিল। ব্রিয়ান্সক হচ্ছে ইউক্রেন, রাশিয়া ও বেলারুশ সীমান্তের একটি কেন্দ্র। এখানেই ওইসব সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়।

লুকাশেঙ্কো আরও বলেন, ‘বেলারুশ দ্রুতগতিতে সীমান্ত চৌকিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছিল। সেই কারণে হামলাকারীরা বেলারুশে ঢুকতে পারেনি। পরে তারা তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে ইউক্রেন-রাশিয়ার সীমান্তের দিকে গিয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, পুতিন এবং আমি পুরো একটি দিন ঘুমাইনি। আমাদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ছিল।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত