অর্থনৈতিক সংকটে জর্জড়িত পাকিস্তান কঠিন সময় পার করছে। মাত্রাতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, অব্যস্থাপনা এবং করোনাভাইরাস মহামারীর অভিঘাত নিয়ে বিপর্যস্ত দেশটি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এখন আন্তর্জাতিক মুদ্র্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক তহবিল প্রত্যাশা করছেন। এর আগেও দেশটি আইএমএফের দ্বারস্থ হয়েছিল। গত সপ্তাহে শাহবাজ বলেছেন, ‘আইএমএফের আরেক দফা প্রকল্প ছাড়া আমরা টিকতে পারব না।’ অর্থাৎ একদিকে ক্রম হ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার হার এবং অন্যদিকে আইএমএফের শর্ত এই দুইয়ের সঙ্গে তাল মেলানোই এখন তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের আগের মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় ৩০০ কোটি ডলার পরিমাণ প্রতিশ্রুত অর্থনীতি উদ্ধার তহবিলের শেষ কিস্তির ১১০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠনটির কর্মকর্তারা। এখন ব্রেটড-উডস প্রতিষ্ঠান আইএমএফ কর্মকর্তারা আরও জানান, ইসলামাবাদ আবেদন জানালে মধ্যমেয়াদি একটি ঋণ প্রকল্পের পরিকল্পনা তারা তৈরি করতে পারে।
২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানে ৩০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত মজুরি কমে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঠেকেছে মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলারে, যা দিয়ে মাত্র দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেতে পারে। নির্বাচনের পর গঠিত জোট সরকারের সামনে দেশটির অর্থনীতির নড়বড়ে চেহারা মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ছাড়া আইএমএফের শর্তও বড় সংকট তৈরি করবে সরকারের সামনে।
সাধারণ আইএমএফ ঋণ প্রকল্পের তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো অজনপ্রিয় কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলে। অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়। এ ক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ভর্তুকি প্রত্যাহার, করের আওতা বৃদ্ধি এবং লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোকে বিক্রি করে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে শাহবাজ সরকারকে।
পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ সাফিয়া আফতা বলেন, কঠোর সংস্কার কর্মসূচি মানুষকে আরও কষ্টকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
